নিজস্ব প্রতিনিধি : হিন্দুধর্ম অনুসারে ভাদ্র মাসের শুক্লপক্ষের চতুর্থী তিথিতে পালিত হয় গণেশ চতুর্থী। এই দিনেই মহাদেব ও পার্বতীর সন্তান গণপতির জন্ম হয়।গজানন হলেন বুদ্ধি, সমৃদ্ধি ও সৌভাগ্যের সর্বোত্তম দেবতা।গণেশ পুজো বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন নামে পরিচিত। সনাতন ধর্মে গণেশকে বলা হয়ে থাকে অগ্রপূজ্য। সব দেবতার আগে তাঁর পুজো করার রীতি রয়েছে। আপনি কী জানেন কেন সবার আগে গণেশের পুজো করা হয়। এর পেছনে বিভিন্ন কাহিনী রয়েছে। তবে জেনে নিন এর পেছনে কি কাহিনী রয়েছে।
প্রথম কাহিনী : গণেশকে নিজের গায়ের ময়লা থেকে তৈরি করেছিলেন পার্বতী। গণেশের জন্ম দেওয়ার সময় সেখানে অনুপস্থিত ছিল। তাই গণেশের জন্মের তিনি জানতেন না। সেইসময় পার্বতীর স্নান করার সময় হয়ে গিয়েছিল।পার্বতী স্নানে যাওয়ার আগে ছোট্ট গণেশকে দরজা পাহারা দেওয়ার দায়িত্ব দিয়ে যান। তিনি আদেশ দেন যে তাঁর স্নান সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত যেন কেউ সেখানে প্রবেশ করতে না পারে।
কিছুক্ষণ পরেই মহাদেব সেখানে উপস্থিত হন।তিনি ভেতরে যেতে চাইলে তাঁকে বাধা দেন ছোট্ট গণেশ। এটা দেখে শিব প্রথমে অবাক হন। ছোট্ট শিশুর এমন সাহস দেখে প্রথমে মিষ্টি কথায় তাঁকে বোঝালেন। কিন্তু মাতৃআজ্ঞা পালনে অটল ছিল গণেশ। গণেশকে বারবার ভেতরে যেতে দিতে বললেও মহাদেবকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেন নি গণেশ। এত স্পর্ধা দেখে মহাদেব রেগে যান। হাতে থাকা ত্রিশুল সোজা ছুঁড়ে দিলেন গণেশের দিকে। ত্রিশুলের আঘাতে গণেশের মাথা থেকে দেহ আলাদা হয়ে যায়।
অন্যদিকে স্নান সেরে পার্বতী বাইরে এসে দেখেন রক্তাত্ত অবস্থায় গণেশের দেহ পড়ে রয়েছে মাটিতে। ছেলেকে এভাবে দেখে নিয়ন্ত্রণ হারালেন পার্বতী। ক্ষোভে গোটা বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ড ধ্বংস করে দেবেন বলে জানান। তখন দেবী পার্বতীকে শান্ত করতে দ্রুত শিব আদেশ দেন। উত্তর দিকে মাথা দিয়ে শুয়ে আছে, এমন কাউকে দেখলে তার মাথা কেটে নিয়ে আসতে। অনুচররা দেখেন সেখানে একটি হাতি শুয়ে আছে। সেই হাতির মাথা কেটে মহাদেবের হাতে দিলে। তিনি জোড়া লাগিয়ে দেন গণেশের দেহের সঙ্গে।এরপর পুত্র গণেশকে তিনি আশীর্বাদ করেন, সবার আগে গণেশের পুজো করতে হবে।
দ্বিতীয় কাহিনী : একদা গণেশ ও কার্তিকের মধ্যে প্রতিযোগিতা হয়েছিল যে কে সবার সেরা। মহাদেব ও পার্বতী তাঁদের শর্ত দেন যে, যে আগে পুরো বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ড প্রদক্ষিণ করে আসতে পারবে সেই হবে সেরা।
কার্তিক ভাবে নাদুশ নুদুশ গণেশ ইঁদুরের পিঠে চড়ে কখনোই তাঁর আগে পৃথিবী প্রদক্ষিণ করে আসতে পারবেন না। কিন্তু তিনি ময়ূরের পিঠে চড়ে গোটা পৃথিবী ঘুরে এসে দেখেন যে গণেশ আগে থেকেই সেখানে বসে আছেন।
এমন অসম্ভব কীভাবে সম্ভব হল তা জানতে চাইলে গণপতি বলেন যে তাঁর বাবা-মাই হল গোটা বিশ্বব্রহ্মাণ্ড। তাই তাঁদের প্রদক্ষিণ করেই তিনি গোটা বিশ্ব ঘুরে ফেলেছেন। গণেশের এই বুদ্ধি দেখে তাঁকে অগ্রপূজ্য হওয়ার আশীর্বাদ দিয়েছিলেন শিব পার্বতী।