নিজস্ব প্রতিনিধি : ‘দু্র্গাপুজো’ আর ‘ঢাক’ শব্দটি একই মুদ্রার এপিঠ ও ওপিঠ। দুর্গাপুজো উপলক্ষে পুজো মণ্ডপ গুলোতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। বৃহস্পতিবার ১০ অক্টোবর হল মহাসপ্তমী। চারিদিকে পুজো পুজো রব। কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে ঢাক বাদ্যির বাজনা। ঢাকের আওয়াজ ছাড়া সত্যিই পুজো যেন একেবারে অসম্পূর্ণ।প্রতিমার আসনে প্রতিস্থাপন থেকে শুরু করে বিসর্জন,সবখানেই অন্যতম প্রধান অঙ্গ হল ঢাকের বাজনা। এর অন্যতম আকর্ষণ হল ‘ঢাকের হাট’
এইসময় মণ্ডপ সাজাতে ব্যস্ত সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন পুজারিরা। ঢাকিরাই বা কম যায় কেন ? পুজার আনুষ্ঠানিকতার প্রধান অঙ্গ ঢাকের চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে প্রত্যেক বছরের মত এবারও বসেছে ‘ঢাকের হাট’। ঢাক বাজানোর মুন্সিয়ানা দেখে যে হাট থেকে ঢাকিদল ভাড়া করে নিয়ে যান পুজোর আয়োজকেরা। কে হবে সেরা এই নিয়ে মূলত প্রতিযোগিতা চলে ঢাকিদের মধ্যে।পুজো উদ্যোক্তাদের নজর কাড়ার চেষ্টা চলতে থাকে।
এর আগে গত মঙ্গলবারও বেলা সাড়ে তিনটার দিকে বাংলাদেশের কটিয়াদীর পুরানবাজারে সরেজমিন ‘ঢাকের হাট’ বসেছিল। দূরদূরান্ত থেকে ঢাকিদের অসংখ্য দল হাটে জমায়েত হয়েছিল। সেখানে দেখা যয়া, ঢাকঢোল আর বাঁশি বাজিয়ে পুজোর আয়োজকদের নজর কাড়ার চেষ্টা করছেন কেউ কেউ। অনেকে আবার বায়নার জন্য দরদাম করছেন। সেনাসদস্যসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও বাজার পরিদর্শন করেছেন।
তবে এবার হাটে এসেছে প্রায় ২০০ ঢাক দল। ২০০ সদস্যের সংখ্যা অন্তত ১ হাজার। নানা কারণে আগের জৌলুশ হারাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী এই হাট। দুর্গাপূজায় কটিয়াদীর ঢাকের হাটকে হৃদয়ে লালন করেন ময়মনসিংহের নান্দাইল থেকে আসা পুজারি অবিনাশ দেবনাথ। হাটে তাঁর ৪০ বছরের আসা–যাওয়া। হাটে এসে দরদাম করে ঢাকদল না নিয়ে গেলে মন ভরে না। এবারও তিনি এসেছেন।
বাংলাদেশের ঢাকার নবাবগঞ্জ থেকে সোমবার হাটে এসেছিলেন সুশীল দাস নামের এক ঢাকি। তিনি একটি মণ্ডপের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হতে পেরেছেন। এই নিয়ে স্বস্তি প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘টাকা কত পেলাম, সেটা বড় কথা নয়, চুক্তিবদ্ধ হতে পেরেছি এতেই শান্তি। কারণ, তা না হলে থাকতে হত হাটে। সেই ক্ষেত্রে কষ্ট হতো অনেক।’ এছাড়াও বিশুদ্ধ জলের সমস্যা থেকে শুরু করে নিরাপত্তা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।
পুজারি অবিনাশ জানান, দিন দিন হাটে বিলুপ্তির সংখ্যা বাড়ছে। এইভাবে কমতে থাকলে ঐতিহ্যের হাট স্মৃতি হয়ে উঠবে। বাস্তবে আর খোঁজে পাওয়া যাবে না। হাটের ঐতিহ্য ধরে রাখতে এখনই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা করা উচিত। না হলে এর ভবিষ্যত অনিশ্চিত।
একইসঙ্গে ঢাক বাজার কমিটির সভাপতি শীতল সাহা জানান, নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে হাটে এখনো প্রতিবছর ৩০০ থেকে ৩৫০ ঢাকির দল আসে। এবার কিছুটা কম এসেছে। বায়না না হওয়ায় অনেককে ফিরে যেতে হয়। সেই ক্ষেত্রে তাঁরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। তাঁদের ক্ষতিপূরণের জন্য ফিরে যাওয়ার ভাড়া ও খাওয়ার টাকা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এসব বিষয় মাথায় রেখে সমাধান বের করা গেলে হাটটি টিকে থাকবে। না হলে প্রযুক্তির যুগে ঐতিহ্য ধরে রাখা বেশ মুশকিলই বটে।