নিজস্ব প্রতিনিধি : আর কিছু সময়। এরপরেই উৎসবে মেতে উঠবে বঙ্গবাসী। কেননা উমা যে আসছে..। কৈলাস থেকে নেমে মর্ত্যে পা রাখতে চলেছে মহিষাসুরমর্দিনী। তবে গোটা বিশ্বে দেবী দুর্গার বিভিন্ন রুপ ও চরিত্র ভিন্ন ভিন্নভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়। তবে আশ্চর্যের বিষয় হল দেবীর দুর্গার রঙের পেছনেও রহস্য রয়েছে। কোথাও দেবী দুর্গা পীতবর্ণ, কোথাও বা হরিদ্রাবর্ণ, আবার কোথাও দেবীর গায়ের রঙ নীল। ভিন্ন ভিন্ন রঙের পেছনে লুকিয়ে আছে রহস্য। জানেন কী কেন দেবীর এমন রঙের পেছনে কারণ কী ? তবে দুর্গা পুজোর আগেই জেনে নিন কোন দেবীর গায়ের রঙের রহস্য।
দুর্গার বিভিন্ন রূপের পিছনে লুকিয়ে রয়েছে নানা ধরনের গল্পও। দুর্গার গায়ের রং নিয়ে নানা মুনির নানা মতও প্রচলিত রয়েছে।
আরও পড়ুন : কেন শরৎকালেই হয় মাতৃশক্তির আগমন ? জেনে নিন দুর্গাপুজোর ইতিহাস
রহস্য : দেবী দুর্গার গায়ের রং হল অতসী ফুলের মতো। মজার বিষয় হল, অতসী ফুল বঙ্গদেশের একেক জায়গায় ভিন্ন ভিন্ন রঙের ফোটে। যদিও বেশির ভাগ জায়গাতেই তার রঙ হয় সোনালি, তাই বঙ্গদেশের দুর্গার মূর্তির গায়ের রং হয় সোনার মতো।
আরও পড়ুন : শত্রু থেকে ভক্ত! জেনে নিন ত্রিভুবন কাঁপানো মহিষাসুরের জন্ম রহস্য
আবার কিছু কিছু জায়গায় অতসী ফুল ফোটে নীল রঙের, সেইসব জায়গায় দুর্গামূর্তি হয় নীল রঙের। এই রঙ নিয়ে নানা রকম ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ আছে। বেশিরভাগ মতেই দুর্গার গায়ের রং লালচে, যা রাগ, শক্তি আর জয়ের প্রতীক। তেমনই পুরাণ মতে মা দুর্গার পরনের শাড়ি হল লালচে অগ্নি বর্ণের। যা রাগ, শক্তি আর জয়ের প্রতীক। সমস্ত পাপ বিনাশ করে করে শুদ্ধতার প্রতীক হল এই শাড়ি।
দেবীর বর্ণনায় ‘তপ্তকাঞ্চনবর্ণাভ্যাম’ কথাটা পাওয়াই যায়। ঋগ্বেদ অনুযায়ী আদিবর্ণ, ‘লোহিতকৃষ্ণশুক্লাম’। ছান্দোগ্য উপনিষদে বলা হয়, তিনটি বর্ণই আদি, ‘ত্রীণি রূপাণীত্যেব সত্যম’। অগ্নি বা সূর্য হল লোহিত। জল বা বরুণ হল শ্বেত। পৃথ্বী বা পৃথিবী হল কৃষ্ণ।
আরও পড়ুন : দেবতাদের থেকেও শক্তিশালী ! কারা ছিল ভয়ংকর এই অসুর ?