নিজস্ব প্রতিনিধি : শুধু প্রহর গোনা বাকি। এরপরেই মর্ত্যে আসবেন উমা। পুজোর কটা দিন আনন্দ, হইচইয়ের মধ্য দিয়ে কাটে বাঙালিদের। কিন্তু প্রতিমা বিসর্জনের সময় চোখ ছলছল করে ওঠে ভক্তদের।অনেকে বলে থাকেন মা যদি আর কটা দিন থাকত..। বিজয়ার দিন প্রতিমা বিসর্জন দেওয়াই নিয়ম। জানেন কী কেন বিজয়ার দিনই প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয় ? তবে জেনে নিন এর পেছনে কী কারণ রয়েছে।
আসলে মা দুর্গাকে বিসর্জন দেওয়া হয় না।বিসর্জন দেওয়া হয় প্রতিমাটিকে।মাটির প্রাণহীন মূর্তিতে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করলে সেটি প্রতিমা হয়। আর পুজা শেষে দেবীকে বিদায়ের পর সেই প্রতিমাটি আবার প্রাণহীন মূর্তি হয়ে যায়। বিসর্জন দেওয়া হয় যাতে পরের বছর নতুন ভাবে দেবীকে ডেকে এনে পুজো করা যায়। মনে করা হয়,পাঁচ দিন বাপের বাড়ি এসে ভক্তি -আপ্যায়ন পেয়ে দশমীর দিন উমা ফিরে যায় স্বামী মহাদবের কাছে কৈলাস পর্বতে। শুধু পড়ে থাকে মাটির প্রাণহীন প্রতিমাটি।
প্রাণহীন সে প্রতিমার আর কাজ কী? তাই সে প্রতিমা জলে ‘বিসর্জন’ দেওয়া হয়।মাটির প্রতিমা থেকে মাটি ধুয়ে গলে চলে যায়, পড়ে থাকে কাঠামোটুকু। সেই খড়ের কাঠামো ফেরত এনে পরের বছর আবার করে প্রতিমা তৈরির তোড়জোড় করা হয়।
বিজয়া দশমীর দিনই কেন বিসর্জন দেওয়া হয় : পুরাণ মতে, প্রত্যেক বছর পুজোর সময় দেবী নিজের বাপের বাড়িতে আসেন। তার পরে দশমীর দিন তিনি আবার স্বামীর কাছে ফিরে যান। দেবী যখন বাপের বাড়ি আসেন, তখনই তাঁর পুজো করা হয়। মর্ত্যলোকে দেবীর আরাধনার জন্য মূর্তি গড়া হয়। এর পরে মূর্তিতে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করা হয়। দেবী তাতে অধিষ্ট হন। কিন্তু দশমীর দিন এই মাটির দেহ ত্যাগ করেই তিনি ফিরে যান স্বামীর কাছে। তখন মাটির দেহটি প্রাণহীন হয়ে পড়ে।
আরও পড়ুন : নিয়ম মেনে আজও নীল দুর্গার পুজোয় হয় শত্রু বলি! জানেন কী কোথায়
আবার পুরাণমতে মহিষাসুরের সঙ্গে ৯ দিন ৯ রাত্রি যুদ্ধ করার পর দশম দিনে বিজয়ী হয়েছিলেন দেবী দুর্গা।দশম দিনেই অধর্ম ও পাপের বিনাশ করেছিলেন দেবী। এইদিনই ‘বিজয়া’ নামে পরিচিত। এরপরই দেবী দু্র্গা রুপ ছেড়ে পার্বতী রুপে ফিরে আসেন।যেহেতু দেবী দশমীর দিন ধরাধাম ছেড়ে কৈলাসে পাড়ি দেন, তাই প্রাণহীন প্রতিমাটি কেবল পড়ে থাকে। তাই সেই প্রতিমাটিই এইদিন জলে বিসর্জন দেওয়া হয়। অপেক্ষায় থাকে ভক্তরা। এভাবেই পরের বছর দেবীকে নতুন ভাবে স্বাগত জানানো হয়।