নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: প্রেম দিবসে বান্ধবীদের সঙ্গে বেড়াতে গিয়েই নরপিশাচদের হাতে গণধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন এক কিশোরী। আর মেয়ের গণধর্ষণের কথা জানতে পেরে লজ্জায় বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালালেন মা। বর্তমানে হাসপাতালের বেডে শুয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়চৈন তিনি। মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে ময়মনসিংহের শেরপুরের ঝিনাইগাতিতে। ধর্ষণের ঘটনায় চার অভিযুক্তের নামে মামলা দায়ের হয়েছে। যদিও একজনকেও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। অথচ অভিযুক্তরা বহাল তবিয়তেই বুক ফুলিয়ে এলাকায ঘুরে বেড়াচ্ছে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভে ফুঁসছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রেম দিবসে অর্থাৎ ভ্যালেন্টাইন ডে’তে চার বান্ধবীর সঙ্গে ঝিনাইগাতির গজনী অবকাশ কেন্দ্রের একটি পাহাড়ে বেড়াতে গিয়েছিলেন নির্যাতিতা কিশোরী। সেখানেই তার সঙ্গে দেখা হয় পূর্ব পরিচিত মোহাম্মদ ইলিয়াসের সঙ্গে। মওকা বুঝে ইলিয়াস তার তিন সঙ্গীকে নিয়ে নির্যাতিতা কিশোরীকে অবকাশকেন্দ্রের ভেতরে একটি পাহাড়ে নিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে চার জনে মিলে কিশোরীকে গণধর্ষণ করে। নরপিশাচদের হাত থেকে নিজেকে বাঁচাতে আর্ত চিৎকার করে নির্যাতিতা। চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে কিশোরীকে উদ্ধার করে বাড়িতে পৌঁছে দেয়।
বিষয়টি নিমিষেই জানাজানি হয়ে যায়। অভিযুক্তরা প্রভাবশালী পরিবারের হওয়া ধর্ষণের ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে এবং মামলা না করার জন্য কিশোরীর পরিবারের উপর চাপ দেয়। গতকাল মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় লজ্জায় বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ঝিনাইগাতি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান পরিবারের সদস্যরা। সেখানে শারীরিক পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটায় চিকিৎসকরা কোনও ঝুঁকি না নিয়ে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে পাঠান। সেখানেও তার অবস্থার অবনতি হলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। এ বিষয়ে ঝিনাইগাতি থানার ওসি আল-আমীন বুধবার সকালে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘থানায় ধর্ষণের মামলা দায়ের হয়েছে। এখনও কেউ গ্রেফতার হয়নি। অভিযুক্তদের গ্রেফতারে বিশেষ অভিযান চলছে। নির্যাতিতার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তাকে জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’