নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূসের জমানায় অবিরাম ধর্ষণের দেশে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ। এমনকি বদলের বাংলাদেশে ধর্ষকদের হাত থেকে রেহাই মিলছে না জুলাই-অগস্টের আন্দোলনে শহিদের কন্যাকেও। পটুয়াখালির দুমকি উপজেলার পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নেই ওই লজ্জাজনক ঘটনা ঘটেছে। এক শহিদ কন্যাকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করার পাশাপাশি নগ্ন ভিডিও-ও তুলেছে ধর্ষকরা। কাউকে কিছু জানালে ওই ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে দে-ওয়া হবে বলেও নির্যাতিতাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। যদিও ওই ন্যক্কারজনক ঘটনার কথা জানাজানি হয়ে গিয়েছে। সমালোচনার মুখে পড়ে পুলিশ তড়িঘড়ি এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। যদিও পুলিশের ভূমিকায় খুশি নয় নির্যাতিতা কিশোরী। তাঁর প্রশ্ন, ‘এই জন্যই কী জুলাই-অগস্ট আন্দোলনে আব্বা প্রাণ দিয়েছিল?’
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শেখ হাসিনা উচ্ছেদ আন্দোলনে সামিল হয়েছিলেন পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের জসিম হাওলাদার। আন্দোলন চলাকালীন পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারাতে হয়েছিল। গতকাল মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) বাবার কবরে প্রার্থনা শেষে দাদু (মায়ের বাবা) বাড়িতে যাচ্ছিলেন জসিমের কলেজ পড়ুয়া ১৭ বছরের কিশোরী কন্যা। পথে নলদোয়ানিতে একই গ্রামের দুই যুবক সাকিব মুন্সি এবং সিফাত মুন্সি কিশোরীর পথ আটকে তাকে জোর করে তুলে পাশের একটি বাগানে নিয়ে যায়। সেখানে কিশোরীকে বিবস্ত্র করে ধর্ষণ করে। নগ্ন অবস্থায় নির্যাতিতার ছবি মোবাইল বন্দি করে। এমনকি মুখ খুললে নগ্ন ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয় ধর্ষকরা।
বাড়ি ফিরে কাউকে ধর্ষণের ঘটনা জানায়নি নির্যাতিতা। বুধবার (১৯ মার্চ) নিজেই দুমকি থানায় গিয়ে সাকিব ও সিফাতের বিরুদ্ধে গণধর্ষণের মামলা দায়ের করে। অভিযোগ পেয়েই শারীরিক পরীক্ষার জন্য পটুয়াখালী সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পাঠায় পুলিশ। এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুমকি থানার ওসি জাকির হোসেন জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ জসিম হাওলাদারের কিশোরী কন্যাকে গণধর্ষণের অভিযোগে একজনকে আটক করা হয়েছে। অন্য অভিযুক্তকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।