নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূসের জমানায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ধর্ষকরা। দিদির শ্বশুরের পাশবিক ধর্ষণে গতকাল বৃহস্পতিবারই (১৩ মার্চ) না ফেরার দেশে পাড়ি দিয়েছে মাগুরার আট বছরের এক শিশু। ওই ঘটনায় হতবিহ্বল গোটা দেশ। ধর্ষকদের চরম শাস্তির দাবিতে গর্জে উঠেছেন দেশের সাধারণ মানুষ। তার মধ্যেই আরও এক ধর্ষণের খবর মিলেছে। এবার এক নার্সকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক বেসরকারি হাসপাতালের মালিকের বিরুদ্ধে। অভিযোগ পেয়েই গুণধর মালিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, কেন এতটা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে অপরাধীরা? জুলাই-অগস্ট আন্দোলনের পরেই বাংলাদেশে নিস্ক্রিয় হয়ে রয়েছে পুলিশ বাহিনী। তার ফায়দা কী লুটছে ধর্ষকরা?
মাদারীপুরের শিবচর থানার ওসি রতন শেখ জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরেই শিবচরের বেসরকারি হাসপাতালে নার্সের চাকরি করতেন নির্যাতিতা তরুণী। ওই হাসপাতালের মালিক আপেল মাহমুদ একাধিকবার বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে কুপ্রস্তাব দিয়েছিলেন তরুণীকে। সেই কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় গত ২০ ডিসেম্বর হাসপাতালের কাজ শেষে বাড়িতে ফেরার পথে নির্যাতিতাকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে কক্সবাজারে যান। সেখানে একটি হোটেলে নির্যাতিতাকে তিন দিন আটকে রেখে ধর্ষণ করেন। পরে ২৫ ডিসেম্বর তাঁকে শিবচর এনে একটি নন–জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে ভুয়া বিয়ের নথি বানিয়ে ছেড়ে দেন।
ঘটনার কথা জানতে পারার পরে গত ৩০ ডিসেম্বর নির্যাতিতার পরিবার থানায় মামলা করতে গেলে অভিযোগ নিতে রাজি হননি ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকরা। এর পর আদালতের দ্বারস্থ হয় নির্যাতিতার পরিবার। পরে আদালতের নির্দেশে গত ৭ জানুয়ারি অভিযুক্ত আপেল মাহমুদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা দায়ের করে পুলিশ। মামলা দায়ের পর থেকেই গা ঢাকা দিয়েছিলেন অবিযুক্ত। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে শিবচরের পাঁচ্চর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ।