নিজস্ব প্রতিনিধি : গরমের সময় বাজারে বিভিন্ন ধরনের ফল পাওয়া যায়। আম, কাঁঠাল, লিচু, কালোজাম। প্রতিটি ফলই একে অপরকে বলে বলে গোল দেয়। কিন্তু কালো জাম শরীরের পক্ষে অত্যন্ত ভালো। নানা পুষ্টিগুণে ভরপুর এই ফল। ভিটামিন সি-এর ভাণ্ডার কালো জাম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। তাই জামের মরশুমে রোজ এই ফল খাদ্য তালিকায় রাখলে শরীর ভালোই থাকবে।
বর্ষা আসার আগে বাজারে এখন জাম সহজলভ্য। টক-মিষ্টি স্বাদের কালো জাম দেখলেই খেতে ইচ্ছা করা অবাস্তব নয়। শুধু স্বাদেই নয়, জামে রয়েছে অনেক গুণ। বহু উপকারিতা রয়েছে জামের। কালচে বেগুনি রঙের রসালো এই ফলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ পুষ্টি।
জাম রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। যাঁদের ডায়াবেটিস রয়েছে, তাঁদের জন্য জাম খুবই উপকারী।জামে রয়েছে অ্যান্টি-ডায়াবেটিক প্রোপার্টিজ। এরজের রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে থাকে। স্টার্চ ও চিনিকে নিয়ন্ত্রণ করে শরীরে শক্তির যোগান দেয়। জামের বীজও শর্করা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এই বীজের গুড়ো খেলে বশে থাকে সুগার লেভেল। রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে গাছের ছাল ও পাতা আয়ুর্বেদ চিকিৎসায় ব্যবহার হয়।
এই রসালো ফলটি হাড়ের শক্তি বৃদ্ধি করে। জাম ক্যালসিয়াম, লোহা, পটাসিয়াম এবং ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ। এই ফলটিতে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি রয়েছে। সু-স্বাস্থ্যের জন্য এটি খুবই প্রয়োজনীয়। জামের মধ্যে রয়েছে, পটাশিয়াম, ফসফরাস, ক্যালশিয়াম, সোডিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম।এটি নিয়মিত খেলে অনেক জটিল রোগ দূর করা সম্ভব। পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম হাড়ের শক্তি বৃদ্ধির জন্য দ্রুত কাজ করে। যাঁদের হাড়ে সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এটি উপকারি।
জাম ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে। জামের কেমো প্রটেক্টিভ বৈশিষ্ট্যগুলো নিয়ে গবেষণা হয়েছে। জানা গিয়েছে, এই ফলের ক্যান্সার হওয়া থেকে দেহকে রক্ষা করার ক্ষমতা রয়েছে। এটি ফ্রি রেডিক্যালসকে নষ্ট করে দেয়।
জামে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, খনিজ রয়েছে। এগুলো যেকোনও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে। ভিটামিন সি এবং আয়রনে ভরপুর এই রসালো ফল জাম। এটি রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বৃদ্ধি করে। ফলে রক্ত সঞ্চালনও বৃদ্ধি পায়। নিয়মিত জাম খেলে হার্টের উপকার হয়। হার্টের সমস্যা থাকলে এই ফলটি খেতে বলা হয়। জামে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য থাকায় মাড়ি থেকে রক্তপাত প্রতিরোধে সাহায্য করে। জাম তৈলাক্ত ত্বকের সমস্যা দূর করে।