পৃথ্বীজিৎ চট্টোপাধ্যায় : দেখতে দেখতে চোখের পলকে কেটে গেল দুর্গাপুজো। এবার লক্ষ্মী পুজো আসন্ন, যা আর ঠিক দু’দিন পরেই। এই লক্ষ্মীপুজোই “কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো” নামে পরিচিত। কিন্তু কেন এই লক্ষ্মীপুজোকে “কোজাগরী” বলা হয় ? জানা যায়, ‘কোজাগরী’ শব্দটি এসেছে সংস্কৃত ‘কঃ জাগর’ শব্দবন্ধ থেকে। সংস্কৃত ‘কঃ জাগর’ বা ‘কো জাগতি’ শব্দের অর্থ ‘কে জেগে আছো’। কথিত আছে, কোজাগরী পূর্ণিমা তিথিতে দেবী লক্ষ্মী মর্ত্যে আসেন তাঁর ভক্তদের আশীর্বাদ করতে। দেবী লক্ষ্মী পার্থিব এবং অপার্থিব সম্পদ, সৌভাগ্য এবং সৌন্দর্যের দেবী। এই তিথিতে যারা রাত জেগে দেবীর আরাধনা করেন এবং দেবীর আগমনের অপেক্ষায় থাকে, তাঁরা মা লক্ষ্মীর আশীর্বাদ থেকে কখনই বঞ্চিত হন না।
দুর্গা পুজোর ঠিক পরের পূর্ণিমাটিই কোজাগরী লক্ষ্মী পুজো। মানুষের বিশ্বাস অনুসারে, দেবী লক্ষ্মী দেখেন, রাতে কে জেগে আছেন পৃথিবীতে । কে তাঁর পুজো করছেন পূর্ণ ভক্তির সঙ্গে । সেই অনুযায়ী তাঁর ঘরে বিরাজ করেন দেবী। এ বছর বুধ ও বৃহস্পতিবার দুই দিন ধরে কোজাগরী লক্ষ্মী পুজো৷ তবে, রীতি অনুযায়ী মা লক্ষ্মী রাতে পুজো নিতে ভালোবাসেন ৷ কোজাগরী পূর্ণিমার চাঁদ আকাশে উঠার পর পুজো শুরু বাংলার ঘরে ঘরে। বাংলা ৩০ আশ্বিন, ইংরেজিতে ১৬ অক্টোবর, বুধবার, পূর্ণিমা তিথি শুরু রাত ৭টা ৪২ মিনিট ৩৭ সেকেন্ডে ও ৩১ আশ্বিন, ইংরেজি ১৭ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার – সন্ধ্যা ৫টা ১৭ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডে পূর্ণিমা তিথি শেষ হচ্ছে। তাই, যাঁরা রাতে পুজো করতে চান, তাঁদের ১৬ তারিখ রাতেই পুজো করে ফেলতে হবে। ১৬ তারিখে পুজো করলেই রাত্রি জাগরণ করা সম্ভবপর হবে। আর, যাঁরা সূর্যোদয় মেনে পুজো করতে চান, তাঁদের ১৭ অক্টোবর পুজো করতে হবে।
এই পূর্ণিমার মাহাত্ম্য : শারদ পূর্ণিমা মা লক্ষ্মীর জন্মতিথি হিসেবে পালন করা হয়। এ দিন অনেকে কৌমুদী ব্রতও পালন করেন। মা লক্ষ্মীকে তুষ্ট করে তাঁর আশীর্বাদ লাভের জন্য এ দিন বিশেষ ভাবে উপযুক্ত। প্রাচীন রীতি অনুযায়ী কোজাগরী পূর্ণিমায় পায়েস রান্না করে তা সারা রাত চাঁদের আলোয় রেখে পরের দিন সকালে প্রসাদ হিসেবে এই পায়েস খাওয়া বিশেষ শুভ বলে মনে করা হয়। এর ফলে আপনার মনের সব ইচ্ছে পূরণ হবে এবং আপনার সংসার ধন সম্পদে ভরে উঠবে। এছাড়াও এই দিন রাতে ঘরে শঙ্খধ্বনি সহকারে দীপ ও ধুপ জ্বালিয়ে লক্ষ্মী দেবীর পাঁচালি ও মাহাত্ম্য পাঠ করা অত্যন্ত ফলদায়ী মনে করা হয়।
লক্ষ্মী পুজো প্রণাম মন্ত্র : ওঁ বিশ্বরূপস্য ভার্য্যাসি পদ্মে পদ্মালয়ে শুভে।
সর্ব্বত পাহি মাং দেবী মহালক্ষ্মী নমহস্তুতে।।