আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন দুশমন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলী খামেনি বেঁচে রয়েছেন? নাকি মার্কিন-ইজরায়েল যৌথ হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন? গোটা ইরান জুড়ে এটাই এখন ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’। ওই জল্পনা জোরদার হওয়ার পিছনে কারণও রয়েছে। গত সাতদিন খামেনিকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। যদিও তেহরান সরকারের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ‘বহাল তবিয়তেই রয়েছেন খামেনি। কিন্তু যেহেতু তিনি ইজরায়েল ও মার্কিন সেনার ‘টার্গেট’, তাই নিরাপত্তার ঘেরাটোপে রয়েছেন তিনি।’
গত ১৩ জুন ইরানে হামলা শুরু করে ইজরায়েলি সেনা। টানা ১২ দিন ধরে চলা হামলায় দেশটির একাধিক শীর্ষ কমান্ডার ও পরমাণু বিজ্ঞানী প্রাণ হারিয়েছেন। ইরানের কোমর ভেঙে দিতে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাস আলী খামেনিকে খতম করা যে তাদের প্রধান লক্ষ্য তা জানিয়েও দিয়েছিলেন ইজরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইজরায়েল কাৎজ। একই কথা শোনা গিয়েছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গলাতেও। ইজরায়েল ও মার্কিন সেনার হামলার পরেই আত্মগোপনে চলে গিয়েছিলেন খামেনি। কিন্তু যুদ্ধ থামার পরেও তার দেখা পাওয়া যায়নি। আর না তিনি প্রকাশ্যে এসেছেন, না তাঁর কোনও বিবৃতির ভিডিও প্রচার করা হয়েছে।
গত তন দশের বেশি সময় ধরে ইরানের সর্বেসর্বা খামেনি। বড় কোনও সিদ্ধান্ত নিতে তাঁর অনুমোদন নিতে হয়। সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবেও তিনি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা বা ইজরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মতো সামরিক সিদ্ধান্ত অনুমোদনের একমাত্র ক্ষমতাধর। কিন্তু গত কয়েকদিনে ইরানের সিনিয়র সামরিক কমান্ডার এবং সরকারি কর্মকর্তারা খামেনির সঙ্গে দেখা করেছেন ইংবা কথা বলেছেন কিনা, তা নিয়ে সরাসরি জবাব এড়িয়ে গিয়েছেন। খামেনির নীরবতা নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তিনি কি রোজকার রাষ্ট্র পরিচালনায় এখনও সক্রিয়? তিনি অসুস্থ, আহত, নাকি মারা গিয়েছেন?
ইসলামিক রেভ্যলুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) কমান্ডার ইয়াহিয়া সাফাভির পুত্র হামজেহ সাফাভি অবশ্য জানিয়েছেন, ‘সুস্থ রয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা। যুদ্ধবিরতির মাঝেও তাঁকে খুন করা হতে পারে এমন আশঙ্কায় খামেনিকে বিশ্ব থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন রেখে কঠোর নিরাপত্তায় রাখা হয়েছে।’ একই কথা বলেছেন খামেনির আর্কাইভস অফিসের প্রধান কর্মকর্তা মেহদি ফাযায়েলি। তিনিও বলেছেন, ‘যারা খামেনির নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন তাঁরা দেশের সর্বোচ্চ নেতাকে বাঁচানোর দায়িত্ব ভালভাবেই পালন করছেন।’