আন্তর্জাতিক ডেস্ক: শুধু মুখেই হুঙ্কার ছুঁড়ে ক্ষান্ত থাকেনি। সোমবার (২৩ জুন) তিন পরমাণু ঘাঁটিতে হামলার বদলা নিতে কাতার ও ইরাকে অবস্থিত মার্কিন বায়ুসেনা ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাল ইরান। যদিও ওই হামলায় কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কিনা, তা জানা যায়নি। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরেই আকাশপথ বন্ধ করে দেওয়ার কথা জানিয়েছে কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটল বলেই মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।
গত রবিবার (২২ জুন) ভোরে ইজরায়েলের হয়ে ইরানের তিনটি পরমাণু ঘাঁটিতে বি-২ স্টেলথ যুদ্ধবিমান দিয়ে হামলা চালায় মার্কিন সেনা। ওই হামলার পরেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দাবি করেন, ‘মার্কিন বিমান বাহিনী ইরানের তিনটি পারমাণবিক কেন্দ্রে ‘সফল আক্রমণ’ চালিয়েছে।’ মার্কিন হামলার পরেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলী খামেনি হুঙ্কার ছেড়েছিলেন, ‘আমেরিকাকে এই হামলার যোগ্য জবাব দেওয়া হবে। ইজরায়েল-আমেরিকা যুদ্ধ শুরু করেছে। ওই যুদ্ধ শেষ করবে ইরান।’
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘আলজাজিরা’ জানিয়েছে, সোমবার আচমকাই কাতার ও ইরাকে অবস্থিত মার্কিন বায়ুসেনার ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। ইরাকে অবস্থিত মার্কিন ‘আই আসাদ’ ঘাঁটি লক্ষ্য করে ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান সেনাবাহিনী। পাশাপাশি কাতারের রাজধানী দোহার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত মার্কিন আল উদেইদ বিমান ঘাঁটি লক্ষ্য করেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইসলামী বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি)। ওই বিমান ঘাঁটিতে কমপক্ষে ১০ হাজার মার্কিন সেনা রয়েছে। মার্কিন বায়ুসেনা ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর পরে ইরানকে হুমকি দিয়েছে কাতারও। দেশটির বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, আল-উদেইদ ঘাঁটিতে আইআরজিসি’র হামলা ‘কাতারের সার্বভৌমত্ব, আকাশসীমা এবং রাষ্ট্রপুঞ্জের সনদের লঙ্ঘন।’