নিজস্ব প্রতিনিধি, ওয়াশিংটন: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসনের গভীর ষড়যন্ত্রের ফলেই শেখ হাসিনাকে হঠিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হয়েছেন ‘সুদখোর’ এবং ‘রাজাকার’ মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূস। এবার তারই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ এবং বাংলাদেশ ব্যাঙ্কের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করল এক মার্কিন আদালত। গত বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) ইউএস ডিস্ট্রিক্ট বিচারক কার্ল জে নিকোলস স্মিথ ওই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন। সেই সঙ্গে তিনি মার্কিন মার্শাল সার্ভিসকে আদেশ দিয়েছেন দুই জালিয়াতকে অবিলম্বে গ্রেফতার করে যেন আদালতে পেশ করা হয়। কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এমন নির্দেশ বাংলাদেশের মুখে চুনকালি লেপে দিয়েছে। অতীতে বাংলাদেশের শীর্ষ পর্যায়ে থাকা কারও বিরুদ্ধে এমন গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়নি।
নিউ ইয়র্ক ভিত্তিক আইনি সংবাদমাধ্যম ‘ল ৩৬০’-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ১৯৯৭ সালে শেখ হাসিনার জমানায় স্মিথ কোজেনারেশন নামে এক মার্কিন সংস্থার সঙ্গে বাংলাদেশ সরকার একটি বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি স্বাক্ষর করে। পরে ১৯৯৯ সালে ওই প্রকল্পটি একতরফাভাবে বাতিল করে দেয়। এর ফলে বিশাল অঙ্কের টাকা (৩১.৯ মিলিয়ন ডলার) ক্ষতি হয়েছে দাবি করে স্মিথ কোজেনারেশনের তরফে আইসিসি ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় বুধবারই ইউএস জেলা আদালতে হাজির হওয়ার জন্য বাংলাদেশের অর্থ উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ ব্যাঙ্কের গভর্নরকে নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু সেই নির্দেশ উপেক্ষা করায় বৃহস্পতিবারই দু’জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন বিচারক।
অর্থ উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ ব্যাঙ্কের গভর্নরের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়ায় যথেষ্টই অস্বস্তিতে পড়েছে মার্কিন দালাল হিসাবে পরিচিত মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূস। ইতিমধ্যেই অবশ্য ওই গ্রেফতারি পরোয়ানাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আপিল করা হয়েছে। আপিলে বলা হয়েছে, যে দুই পাণ্ডার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে তারা উভয়েই উচ্চ পর্যায়ের বাংলাদেশি কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল এবং বিশ্বব্যাঙ্কের কর্মকর্তা। তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফৌজদারি এবং দেওয়ানি মামলা থেকে দায়মুক্ত।