আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ক্রমশই উত্তপ্ত হচ্ছে রাশিয়া ও ইউক্রেন দ্বন্দ্ব। এদিকে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী ও প্রতিরোধ যোদ্ধারা গত তিন সপ্তাহ ধরে রাশিয়ার ভেতরে ঢুকে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে। এবার রাশিয়ার সীমান্তবর্তী বেলগ্রোদ অঞ্চলে রাতভর হামলা চালিয়েছে ইউক্রেনের বাহিনী। এতে ৫ জন বেসামরিক মানুষজন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে কমপক্ষে ১২ জন।
রবিবার(২৫ অগাস্ট)দেশটির আঞ্চলিক (বেলগ্রোদ অঞ্চলের) গভর্নর ভাচেস্লাভ গ্লাদকোভ এই নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন।জানিয়েছেন, ‘এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা, শত্রুপক্ষের ক্রমাগত গোলাবর্ষণে পাঁচজন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন প্রায় ১২ জন। তাঁদের মধ্যে তিনজন অপ্রাপ্তবয়স্ক ছিল।’
চলতি বছরের গত ৬ আগস্ট ট্যাঙ্ক ও সাঁজোয়া যান ( যুদ্ধ যান ) নিয়ে রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলে ঢুকে পড়েছিল ইউক্রেনের সেনাবাহিনী।ইতিমধ্যে প্রায় ১ হাজার ২০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা দখলের পাশাপাশি তাঁদের সামরিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার দাবিও করছে।
রাশিয়া ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর পর দেশটির ভেতরে এই হামলাই ইউক্রেনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য আক্রমণ বলে মত বিশ্লেষকদের। শুধু তাই নয় বিশ্লেষকরা জানাচ্ছেন, ইউক্রেন যদি রাশিয়ার ভেতরে তাদের অবস্থান ধরে রাখতে পারে তাহলে পুতিনকে শান্তি আলোচনায় বসতে হতে পারে।
অন্যদিকে ইউক্রেনের হামলা প্রতিরোধে রাশিয়াও সর্বশক্তি নিয়ে পাল্টা হামলা করেছে। কুরস্কে ইউক্রেনীয় সেনাদের প্রতিরোধের পাশাপাশি ইউক্রেনের ভেতরেও হামলা জোরদার করেছে রাশিয়া। এমতাবস্থায় যেকোন মূহুর্তে বড়সড় যুদ্ধ বাঁধতে পারে বলে আশঙ্কা করেছে বিশ্লেষকরা। ফলে প্রশ্ন উঠেছে শান্তি আলোচনায় ইউক্রেন আসলেই রাশিয়াকে বাধ্য করতে পারবে কিনা বা রাশিয়া আলোচনায় বসতে রাজি হবে কিনা। কিংবা রাশিয়া পাল্টা হামলা চালালে ইউক্রেন কতটা প্রতিরোধ করতে পারবে এই প্রশ্নও আপাতত উড়িয়ে দেওয়া যায় না।