আন্তর্জাতিক ডেস্ক : স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৮ই জুন) ভোর ৩ টের সময় পিয়ংইয়ংয়ের বিমানবন্দরে পৌঁছোছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। অন্তত একটি যুদ্ধবিমান ছিল তাঁকে বহনকারী উড়োজাহাজ পাহারায়। এই সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। লাল গালিচায় সংবর্ধনা দেন তিনি। এরপর সেখান থেকে হোটেলের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
পুতিনের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ জানিয়েছেন, পুতিনের এই সফরে রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে একটি অংশীদারি চুক্তি স্বাক্ষর হবে। তিনি আরও জানান , এই চুক্তিটি দেশ দুটির মধ্যে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করবে। শুধু তাই নয় গত কয়েক বছরে আন্তর্জাতিক রাজনীতি, অর্থনীতি ও নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে দেশ আলোচনা হবে। দুটি দেশের আলোচনা, সিদ্ধান্ত বিবেচনায় রেখে এই চুক্তি স্বাক্ষর হবে।
তবে আগে থেকেই সতর্ক থাকতে চাইছে দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র। পুতিনের এই সফরকে ইতিবাচকভাবে নিচ্ছে না তাঁরা। ইতিমধ্যেই এই সফর নিয়ে গত শুক্রবার মার্কিন উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কার্ট ক্যাম্পবেলের সঙ্গে ফোনে কথাবার্তা হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার ভাইস পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিম হং কিউনের। তিনি আশঙ্কা করছেন পুতিনের এই সফর মস্কো ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা বাড়বে। যা জাতিসংঘের প্রস্তাব লঙ্ঘন করবে।
২৪ বছর পর রাশিয়ার প্রথম কোনো প্রেসিডেন্টের এই উত্তর কোরিয়া সফর। এর আগে দুই দশক ধরে উত্তর কোরিয়া সফর করে নি কেউই। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের আবহের মধ্যে এই সফর খুব গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকেই। যদিও পুতিনের কার্যালয় আগেই জানিয়েছিল যেকোনো সময় উত্তর কোরিয়া সফর করার সম্ভাবনা রয়েছে তাঁর।
উল্লেখ্য, সর্বশেষ উত্তর কোরিয়ায় সফর করেছিলেন পুতিন ২০০০ সালে। সেইসময় উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ছিলেন কিম জং ইল। তিনি ছিলেন বতর্মান প্রেসিডেন্ট কিম জং উনের বাবা। তবে আন্তর্জাতিক রাজনীতির বিশ্লেষকরা মনে করছেন পুতিনের এই সফরে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে।