আন্তর্জাতিক ডেস্ক : গাজায় বর্তমান পরিস্থিতির কথা কার না অজানা! মৃত্যুপুরীর অপর নাম গাজা। যেন গাজায় জন্ম নিয়ে ছোট্ট শিশুটিও অপরাধ করে ফেলেছে।নেই পর্যাপ্ত খাদ্য, জল ও চিকিৎসা।তীব্র খিদেয় ছটফট করছে গাজার মানুষেরা।গৃহহীন,পরিবার-স্বজনহীন মানুষগুলোর হয়তো দোষ কী তাঁরা নিজেও জানে না। ইজরায়েলের বর্বর আক্রমণের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না নারী ও শিশুরা। সবচেয়ে বেশি আক্রমণের শিকার হচ্ছে তাঁরা।প্রতি মুহূর্তে আতঙ্কে রয়েছে গাজার মানুষ। এই বুঝি মৃত্যুযন্ত্রণা চিৎকার ভেসে এল…। এরমধ্যেই গাজার এক শিশু বিশেষজ্ঞ লোবনা আল-আজাইজার নাম উঠে এল।
পেশায় তিনি একজন শিশু বিশেষজ্ঞ। গাজায় প্রতি মুহূর্তে চিকিৎসা সেবা দিয়ে চলেছেন তিনি। একজন শিশু বিশেষজ্ঞ হলেও এখন তার কাছে সব বয়সের মানুষ চিকিৎসা নিতে আসেন। তাঁর কাছে অনেক মেয়ের অভিযোগ উঠে আসে। তাঁদের চুল আঁচড়ানোর মতো চিরুনি নেই। তাই বাধ্য হয়ে আল-আজাইজা এক কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।তাঁদের চুল কেটে ফেলার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
টানা ১০ মাস ধরে ইজরায়েলি হামলার শিকার হয়ে আসছে গাজা। টানা যুদ্ধে বিধ্বস্ত পুরো গাজা এলাকা।সেখানে ব্যাপক প্রাণহানির পাশাপাশি রয়েছে ভয়াবহ মানবিক সংকট।ছোট্ট এই উপত্যকায় এখন শ্যাম্পু, সাবান, পিরিয়ড পণ্য বা বাড়িঘর পরিষ্কারের মতো জিনিস খুব কম বা নেই বললেই চলে। এমনকী গাজায় বর্জ্য সংগ্রহ ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাও প্রায় নেই বললেই চলে। তাই ছড়িয়ে পড়েছে ছোঁয়াচে রোগ। চিকিৎসাকেন্দ্র গুলো ধ্বংস হয়ে গিয়েছে, যেটুকু আছে তাতে চিকিৎসার সরঞ্জাম ও প্রয়োজনীয় ওষুধপত্রের যথেষ্ট অভাব রয়েছে।
এই নিয়ে ডা. লোবনা আরও জানান যে, ‘বিগত সময়ে আমরা সবচেয়ে সাধারণ যে রোগ দেখেছি তা হলো চামড়ার ফুসকুড়ি ও চর্মরোগ।’এর অনেক কারণ হিসেবে তিনি জানান যে, শরণার্থীশিবিরে অনেক গাদাগাদি, তাঁবুর ভেতরে অসহনীয় গরম, শিশুদের অতিরিক্ত ঘাম হওয়া এবং স্নানের জন্য পর্যাপ্ত জলের অভাব।