আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। আগুনের গ্রাসে প্রাণ গেল ১২ জনের। মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে মেক্সিকোতে। সকলেই রিহ্যাব সেন্টারটিতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। মৃতরা ছাড়াও ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে আহত হয়েছেন কমপক্ষে তিন জন।
জানা গিয়েছে, রাজধানী থেকে ২৪০ কিলোমিটার দূরে গুয়ানাজুয়াতোতে অবস্থিত রিহ্যাবিলেশন সেন্টারটি। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে গত রবিবার ভোরের দিকে। সকলেই ঘুমিয়ে ছিলেন তখন। ফলে আগুন লেগেছে বুঝতেও সময় লেগে গিয়েছিল। যখন বোঝা যায় তখন আগুনের লেলিহান শিখা সব কিছু গ্রাস করতে শুরু করেছে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে আসে দমকলবাহিনী ও উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। দুর্ঘটনায় নিহতদের নাম-পরিচয় এখনও জানা যায়নি।
গুয়ানাজুয়াতোর পুর সরকার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে,”মাদকাসক্তি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করতে গিয়ে যারা নিহত হয়েছেন তাঁদের পরিবারের পাশে আমরা রয়েছি।” নিহতদের শেষকৃত্যের খরচ বহনে সরকার সাহায্য করবে বলে আশ্বস্ত করা হয়েছিল।
স্থানীয় পুলিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে এই অগ্নিকাণ্ডের নেপথ্যে কোনও নাশকতা রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই নাশকতার আশঙ্কার পেছনেও কারণ আছে। এর আগে বেশ কয়েকবার মেক্সিকোর মাদক নিরাময় কেন্দ্রগুলি টার্গেট হয়েছে। মূলত স্থানীয় মাদকচক্রগুলোই এসব হামলার সঙ্গে জড়িত থাকে।
২০২২ সালের জুলাই মাসে, পশ্চিম মেক্সিকান শহর গুয়াদালাজারার কাছে একটি মাদক পুনর্বাসন কেন্দ্রে ছয়জনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এর দুই বছর আগে, ভারী অস্ত্রধারীরা কেন্দ্রীয় শহর ইরাপুয়াতোতে একটি মাদক পুনর্বাসন কেন্দ্রে হামলা চালিয়ে ২৭ জনকে হত্যা করে। ২০১০ সালে, উত্তর মেক্সিকোর চিহুয়াহুয়া শহরে একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে হামলায় ১৯ জন নিহত হন। তাই খতিয়ে দেখা হচ্ছে সবটাই। বিশেষজ্ঞরা প্রমাণ সংগ্রহ করছেন এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন।
প্রসঙ্গত, মেক্সিকোর যে কোনও রাজ্যের মধ্যে গুয়ানাজুয়াতোতে সবচেয়ে বেশি হত্যাকাণ্ড ঘটে। মে মাসেই গুয়ানাজুয়াতোর একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানের সময় তদন্তকারীরা ১৭টি মৃতদেহ খুঁজে পান। এর কয়েকদিন আগে একই অঞ্চলে শিশু সহ সাতজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল।