নিজস্ব প্রতিনিধি: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানেই চমক, আর ইলন মাস্ক থাকলে তো কথাই নেই! এবার তাঁর xAI সংস্থার তৈরি চ্যাটবট Grok নতুন এক ফিচার নিয়ে চরম বিতর্কের মুখে। নাম ‘Grok Imagin’, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা শুধু লেখা বা ছবি দিয়েই ১৫ সেকেন্ডের ভিডিও বানাতে পারেন। কিন্তু বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে এর একটি মোড – ‘স্পাইসি মোড’।
কী এই ‘স্পাইসি মোড’?
Grok Imagin-এর চারটি ভিডিও স্টাইলের মধ্যে ‘কাস্টম’, ‘নর্মাল’, ‘ফান’ ছাড়াও আছে ‘স্পাইসি মোড’—যেটি নিয়ে এখন তুমুল বিতর্ক। এই মোডে প্রাপ্তবয়স্ক বা অ্যাডাল্ট থিমের ভিডিও বানানো সম্ভব, যা অনেকের কাছে অশ্লীল ও অনৈতিক বলে মনে হচ্ছে। সবচেয়ে বড় কথা, ভারতে এই ফিচার ব্যবহার করতে গেলে প্রতি মাসে প্রায় ₹৭০০ খরচ করতে হচ্ছে।
কীভাবে কাজ করে এই AI?
আপনি একটি লেখা বা ছবি দিলে, Grok সেটি বিশ্লেষণ করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি ১৫ সেকেন্ডের ভিডিও তৈরি করে দেয়, যেখানে শব্দও যোগ করা যায়। যদিও ‘স্পাইসি মোড’-এ কেবল Grok-এর তৈরি AI ইমেজ থেকেই ভিডিও বানানো যায়—ব্যক্তিগত গ্যালারির ছবি ব্যবহার করা যাবে না। এটি একপ্রকার সুরক্ষা ব্যবস্থা, যাতে অন্যের ছবি দিয়ে অশালীন কিছু বানানো না যায়।
বর্তমানে ‘স্পাইসি মোড’ কেবলমাত্র iOS অ্যাপে পাওয়া যাচ্ছে এবং এর জন্য সুপারগ্রক বা প্রিমিয়াম প্লাস সাবস্ক্রিপশন লাগবে। ভারতের ক্ষেত্রে যার খরচ প্রায় ₹৭০০ প্রতি মাসে। তবে অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্যও খুব শিগগিরই ফিচারটি আসছে।
কেন উঠছে বিতর্ক?
AI দিয়ে অ্যাডাল্ট কন্টেন্ট তৈরি—এই ধারণাটাই বহু প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও সমাজকর্মীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। যদিও Grok সরাসরি কারও ব্যক্তিগত ছবি ব্যবহার করতে দেয় না, তবুও এর নৈতিকতা ও আইনি দিক নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ন্যাশনাল সেন্টার অন সেক্সুয়াল এক্সপ্লয়টেশন (NCOSE)-এর হ্যালি ম্যাকনামারা জানিয়েছেন, “এই ধরনের ফিচার যৌন শোষণের নতুন পথ খুলে দিতে পারে। যদিও এগুলোর মধ্যে আসল কারও চেহারা নেই, তবুও এগুলো সামাজিক ও মানসিক দিক থেকে ভয়ানক প্রভাব ফেলতে পারে।”
X -এ এই ফিচার নিয়ে ব্যবহারকারীরা দ্বিধাবিভক্ত। কেউ বলছেন এটা AI-র ভবিষ্যতের অংশ, কেউ আবার বলছেন এটা সফটকোর পর্ন বানানোর টুল। এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “স্পাইসি মোড যে কোনও সাধারণ ছবিকে পর্নে রূপান্তর করছে।”
ইলন মাস্ক বরাবরই Grok-কে ‘আনফিল্টারড’ বা সেন্সরবিহীন AI হিসেবে তুলে ধরেছেন। তিনি দাবি করেছেন, মাত্র দুই দিনে ৩৪ মিলিয়ন ছবি তৈরি হয়েছে Grok Imagin-এর মাধ্যমে। এটি এর জনপ্রিয়তা বোঝায়। তবে এই জনপ্রিয়তার মাঝেও যে নৈতিক বিতর্ক মাথাচাড়া দিচ্ছে, সেটাও তিনি এড়িয়ে যেতে পারছেন না।