আন্তর্জাতিক ডেস্ক : দক্ষিণ কোরিয়ার ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৭৬ জনে। এখনও পর্যন্ত ১৭৬ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এখনও পর্যন্ত নিঁখোজ রয়েছে ৩ জন। ২ জন ক্রু সদস্যকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এটি দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে মারাত্মক দুর্ঘটনা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
রবিবার ভোরবেলায় দক্ষিণ কোরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের মুয়ান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় এই বিমান দুর্ঘটনাটি ঘটে। জরুরি পরিষেবাগুলো এখনও পর্যন্ত উদ্ধারকার্য চালিয়ে যাচ্ছে। অ্যাম্বুলেন্সে করে হতাহতদের নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অগ্নিনির্বাপক বাহিনীর ৩২টি ইউনিট ঘটনাস্থলে কাজ করছে।
এই নিয়ে মুয়ান ফায়ার বিভাগের প্রধান লি জিয়ং-হুন জানিয়েছেন, তাঁদের ধারণা পাখির আঘাতে অথবা প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে হয়ত বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর যৌথ তদন্তের মাধ্যমে পরবর্তীতে দুর্ঘটনার কারণ জানানো হবে।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাথমিক ভাবে অন্তত ২৯ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছিল। পরে তা বেড়ে গিয়ে দাঁড়ায় ১৭৬ জনে। হতাহত মানুষের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। জানা গিয়েছে, ১৮১ জন যাত্রী ও ৬ জন ক্রু ছিল ওই উড়োজাহাজটিতে। আচমকা রানওয়ে থেকে ছিটকে গিয়ে বিধ্বস্ত হয়। এদিকে বিমানটি কী কারণে বিধ্বস্ত হয়েছে তা জানতে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে।
উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হওয়ার সময়কার একটি ভিডিয়ো ফুটেজ অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে দেখা যায়, অবতরণের সময় বোয়িং ৭৩৭-৮এএস মডেলের উড়োজাহাজটি রানওয়ে ধরে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। হঠাৎ বিমানবন্দরের সীমানা প্রাচীরের সঙ্গে ধাক্কা খায়। আঘাতের ফলে বিমানটিতে আগুন ধরে যায়। ভিডিয়োটিতে নীল পরিষ্কার আকাশ দেখা যাচ্ছে। যার অর্থ খারাপ আবহাওয়ার কারণে বিমানটির দুর্ঘটনায় পড়ার সম্ভাবনা কম।
প্রতক্ষ্যদর্শীরা জানিয়েছিল, বিধ্বস্ত উড়োজাহাজটির বিভিন্ন অংশে আগুন দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে। ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছে চারিদিক। ভেসে আসছে চিৎকার। অনেকে স্বজনের জন্য কান্নায় ভেঙে পড়েছে।
দেশটির সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে ওই উড়োজাহাজটি থাইল্যান্ড থেকে এসে মুয়ান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করছিল। ঠিক সেইসময় দুর্ঘটনাটি ঘটে। আপাতত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে দমকল বাহিনী এসে পৌঁছেছে। হতাহতদের উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে হাসপাতালে। বিধ্বস্ত উড়োজাহাজটির পেছনের অংশে উদ্ধারকাজ করে চালিয়ে যাচ্ছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। তদন্তে নেমে সঠিক কারণ জানানো হবে বলে জানিয়েছে দেশটির কতৃপক্ষ।