নিজস্ব প্রতিনিধি: আরজি কর-কাণ্ড নিয়ে সরব গোটা দেশ। তরুণী চিকিৎসক মৃত্যুর প্রতিবাদের বিক্ষুব্ধ গোটা দেশ। সমাজের বিভিন্ন মহলে বাড়ছে ক্ষোভ। মঙ্গলবার কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম আরজি কর-কাণ্ডে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে নিজেদের মতামত প্রকাশ করেছেন টলিউডের বিশিষ্টেরা। মহিলা চিকিৎসকের মৃত্যুর দাবিতে দিকে দিকে সরব হচ্ছেন তারকারা। ইতিমধ্যেই টলিউড ‘ইন্ডাস্ট্রি’ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় থেকে আবির চট্টোপাধ্যায়, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, দেব, দিতিপ্রিয়া-সহ টলিউডের একাধিক প্রথম সারির তারকারা।
আরজি কর-কাণ্ডে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় একটি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘অতিমারির সময় আমরা প্রত্যেকের জীবন বাঁচিয়ে স্টার হয়েছেন চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা। তাঁদের কর্মক্ষেত্রে এ রকম একটা পাশবিক ঘটনা ঘটে গেল আর কেউ টের পেল না! এটা প্রশাসনিক ব্যর্থতা ছাড়া আর কিছুই নয়। এর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সিবিআই স্বতন্ত্র সংস্থার উপর। বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি নিয়ে চিকিৎসকেরাও লড়ছেন। ফলে এটা সে দিকেও আরও একটা পদক্ষেপ। এই ঘটনায় দ্রুত সিবিআইয়ের হস্তক্ষেপকে সাধুবাদ জানাই।’
বৃহস্পতিবার ১৪ অগস্ট রাতে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় সমাজের বিভিন্ন স্তরের মহিলারা জমায়েত হবেন, এই প্রতিবাদী লড়াইয়ে সামিল হবেন। এই উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়ে অভিনেত্রী দিতিপ্রিয়া জানিয়েছেন, ‘যারা এই ঘৃণ্য কাজ করেছে, তাদের অবশ্যই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির প্রয়োজন। কিন্তু যাতে অন্য কারও মুখ দিয়ে প্রকৃত সত্য আড়াল না হয়। এই নোংরা কাজে যুক্ত সমস্ত অপরাধীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানাই। মহিলাদের পাশাপাশি একটি শিশুকেও ধর্ষণ করা হচ্ছে। আজকে আমরা কেউ নিজেদের সুরক্ষিত মনে করছি না!’
এদিকে অভিনেতা আবির চট্টোপাধ্যায় এই ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে লিখেছেন, “নির্যাতিতার পরিবারের জন্য স্বান্তনার কোনও ভাষাই পর্যাপ্ত নয়। যা হয়েছিল, যা হচ্ছে তা ভয়ংকর, মেনে নেওয়া যায় না বলা যেতে পারে। বিভিন্ন জায়গা থেকে সাধারণ মানুষের এই প্রতিবাদের কণ্ঠ অত্যন্ত প্রয়োজন। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিচার হওয়া দরকার। এই রাগ, এই ক্ষোভ যেন হারিয়ে না যায়। সাধারণ মানুষের শক্তিকে কখনও অবহেলা করা উচিত নয়। আর এটা এখন সবার বোঝা প্রয়োজন।’
অন্যদিকে অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে লিখেছেন, ‘নির্ভয়ার দৃষ্টান্ত কি এভাবেই চলতে থাকবে? এত বড় একটা সাংঘাতিক আন্দোলন হল কে জানতো এই আন্দোলন আমাদের রাজ্যেই হবে। তাহলে কি হাসপাতাল, কোনও স্কুল, কলেজ, কোথাও কোনও নিরাপত্তা নেই? আমার এটাই প্রশ্ন যে এই রকম ঘটনা দিনের পর দিন ঘটতে থাকবে, কিছুদিন এটা নিয়ে কথা হবে, আবার আরেকটা ঘটনা হবে, এভাবেই কি চলতে থাকবে আমাদের সমাজ? কোন অন্ধকারে আমরা মিশে যাচ্ছি? শরীর খারাপ লাগে এটা ভাবতে ভাবতে যে আমরা এই জায়গায় এই পরিবেশে বাস করছি। প্রত্যেক মুহূর্তে কী ভয়ে ভয়ে বাঁচব?’