নিজস্ব প্রতিনিধি: চারিদিকে শুধু ‘জয় জগন্নাথ – জয় জগন্নাথ’ রব। পুরীর শ্রীমন্দির ছেড়ে মহাপ্রভু জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রার ত্রিরথ পৌঁছায় গুন্ডিচায়। লক্ষ লক্ষ ভক্তের ভিড়ে সদাহাস্য মহাপ্রভুও আনন্দে মুখরিত হয়ে থাকেন। কিন্ত, জগন্নাথ ঘরণী মা লক্ষ্মীর গাল রাগে অভিমানে ফুলে থাকে, কারণ, মহাপ্রভু তাঁর স্ত্রী কে ফেলে রেখেই ভাই বোনকে নিয়ে আট দিনের জন্য টাটা হয়ে যান মাসির বাড়ি ।
ইতিমধ্যেই মা লক্ষ্মীর আরও গাল ভারী হয়ে যায়। মহাপ্রভু জগন্নাথ যখন রথযাত্রায় আসেন, তখন যে মূল শ্রীমন্দির, সেই মন্দিরে মাধব ও শ্রীদেব থাকেন। মাধব তখন মা লক্ষ্মীকে দেখাশোনা করার জন্য থেকে যান। যেমন আমাদের ঘর সংসারে হয় যে, বাড়ির প্রধান বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলে অন্য কেউ দায়িত্ব নিয়ে দেখাশোনা করেন। এখানেও ঠিক সেরকম একটা ব্যবস্থার প্রচলন আছে। সুদর্শন চক্রকেও কিন্তু জগন্নাথ দেবের সঙ্গে প্রদক্ষিণ করানো হয়।
কথিত আছে, শ্রী শ্রী জগন্নাথের মন্দিরে হয়ে থাকে ঐশ্বর্যলীলা, আর তিনি যখন রথযাত্রা করে মাসীর বাড়ি যান, তখন সেই ন’দিন তাঁর রথযাত্রায় হয় মাধুর্যলীলা। এই ঐশ্বর্যলীলা ত্যাগ করে মাধুর্যলীলায় আসায় মা লক্ষ্মী তাঁকে অভিমান করে বলেন যে, “তুমি তাহলে মাসীর বাড়িতেই থাকো। তোমাকে আর আসতে হবে না।” সেই জন্যে রাগ করে তিনি রথের একটা চাকা ভেঙে দেন। আজও প্রথা আছে যে, রথ পৌঁছলে রথের চাকার একটা কাঠের টুকরো ভেঙে দিতে হয়।
এরপর উল্টো রথের দিন শ্রীমন্দিরে ফিরেও তিন দিন রথেই থাকেন মহাপ্রভু জগন্নাথ। এই তিনদিন ধরে চলে স্বর্ণবেশ, অধরপনা ও নীলাদ্রি বিজে উৎসব। এরপরই পুনরায় স্ত্রীর মান ভাঙ্গিয়ে মহাপ্রভু জগন্নাথের শ্রীমন্দিরে পুনঃপ্রবেশ ঘটে।