নিজস্ব প্রতিনিধি : ২৬ হাজার চাকরীপ্রার্থীর ভাগ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। চাকরি প্রাপকদের ভবিষৎ জানতে ২ ঘন্টার শুনানির পর সুপ্রিম কোর্টে প্রশ্ন, যোগ্য এবং অযোগ্য আলাদা করা সম্ভব কী ? নতুন করে পরীক্ষা নেওয়া যেতে পারে কী ? এইসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী শুনানির দিন সুপ্রিম কোর্টে।
নিয়োগ দু্র্নীতি মামলা ইস্যু দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে।সোমবার(২৭ জানুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টে রায় দেওয়ার কথা ছিল। এদিন দুপুর ২টো নাগাদ শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতির এজলাসে শুরু হয় মামলার শুনানি। প্রায় ২ ঘণ্টা ধরে চলে শুনানি। নতুন করে পরীক্ষা নেওয়া কতটা কঠিন, ২৬ হাজার চাকরি বাতিল মামলার শুনানিতে তা জানতে চান সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি।
পাল্টা মূল মামলাকারীদের আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য জানান, অনেকে আবেদন না করেও চাকরি পেয়ে গিয়েছেন। সেক্ষেত্রে যাঁরা চাকরির আবেদন করেছিলেন, তাঁদের আবার নতুন করে পরীক্ষা নেওয়া যেতে পারে বলে আদালতে জানান বিকাশ।
এদিন মূল মামলাকারীদের হয়ে নিয়োগের পুরো প্যানেল বাতিলের সওয়াল করেন বিকাশরঞ্জন। ওএমআর শিটে নম্বর নিয়ম মেনেই প্রকাশ করা হয়েছিল কি না, তা জানতে চান প্রধান বিচারপতি। পাল্টা জবাবে বিকাশ জানান, নিয়ম মেনে কাজ হয়নি।তাঁর বক্তব্য, মামলা দায়েরের পর আদালতের নির্দেশ ওএমআর শিট প্রকাশ করা হয়। এই নিয়ে আইনজীবী বিকাশরঞ্জন আরও বলেন, ‘পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েই প্রশ্ন রয়েছে।গোটা প্রক্রিয়া বিতর্কিত।তাই গোটা প্যানেল বাতিল করা উচিত।’
উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি মামলাটি শুনানির জন্য উঠেছিল সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে। গত ২২ এপ্রিল স্কুল সার্ভিস কমিশন এর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় রায় ঘোষণা করেছিল রাজ্যের হাই কোর্ট। হাই কোর্টের বিচারপতি দেবাংশু বসাক ও বিচারপতি মহম্মদ শব্বর রশিদির ডিভিশন বেঞ্চ ২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল ঘোষণা করে। তার ফলে চাকরি চলে যায় ২৫,৭৫৩ জনের। হাই কোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল রাজ্য সরকার। পৃথক ভাবে মামলাও করেছিল রাজ্যের শিক্ষা দফতর, এসএসসি এবং মধ্যশিক্ষা পর্ষদ।