নিজস্ব প্রতিনিধি, লখনউ: ‘কাদম্বিনী মরিয়া প্রমাণ করিল সে মরে নাই’- বহুকাল আগে জীবিত ও মৃত গল্পে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই অমোঘ বাক্যটি লিখে গিয়েছিলেন। শুক্রবার প্রায় এমনই এক ঘটনা ঘটে গিয়েছে এদেশের বুকে। তবে এক্ষেত্রে মারা গিয়ে প্রমাণ করতে হয়নি কাউকে, বরং এক যুবক নিজে পুলিশের সামনে দাঁড়িয়ে প্রমাণ করেছেন যে তিনি জীবিত।
শুক্রবার উত্তর প্রদেশের কানপুরের এক যুবক স্থানীয় পুলিশকে অবাক করে দিয়েছিলেন। থানায় গিয়ে তিনি নিজের ময়নাতদন্ত বন্ধ করার অনুরোধ করেছিলেন। কারণ তিনি তো জীবিত, কার হবে ময়না তদন্ত!
ঘটনাটি ঘটেছে কানপুরের দেহাত জেলার ঘাটমপুর শহরে। পুলিশ আধিকারিকরা একটি মৃতদেহের ময়নাতদন্ত করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সেই দেহটি আগের দিন সন্ধ্যায় সুমন নামে এক মহিলা শনাক্ত করেছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন যে দেহটি তাঁর নিখোঁজ ভাই অজয় শঙ্খওয়ারের।
বৃহস্পতিবার ঘাটমপুর শহরের আবিষ্কৃত মৃতদেহটি প্রথমে কয়েক ঘন্টা ধরে অজ্ঞাত অবস্থায় পড়ে ছিল। মৃত ব্যক্তির কাছে কোনও শনাক্তকরণের নথি না থাকায়, পুলিশ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে মৃতদেহের ছবি ভাইরাল করে দেহ শনাক্তকরণে সাহায্য চেয়েছিল।
পরে সন্ধ্যাবেলায় সুমন ঘাটমপুর থানায় পৌঁছে মৃতদেহটি তাঁর ভাইয়ের বলে শনাক্ত করে। তিনি জানান, মৃত ব্যক্তি দেখতে অজয়ের মতো। তাঁর পরনেও একই রঙের পোশাক রয়েছে। লাল শার্ট এবং কালো প্যান্ট, অজয় প্রায়ই পরতেন। শনাক্তকরণ এবং পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অভিযোগের পর, পুলিশ তদন্ত সম্পন্ন করে। শুক্রবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মৃতদেহ কানপুরের মর্গে পাঠায় পুলিশ।
তারপরেই ঘটে এক কাণ্ড। ময়নাতদন্তের আগেই আসল অজয় শঙ্খওয়ার ঘাটমপুর থানায় চলে আসেন। এসেই নিজেকে জীবিত বলে দাবি করে বলতে থাকেন, “স্যার, আমি বেঁচে আছি। দয়া করে আমার ময়নাতদন্ত বন্ধ করুন।” কর্তব্যরত অফিসাররাও হতবাক হয়ে যান এই ঘটনা দেখে।
ভিতরগাঁওয়ের একটি ইটভাটায় কাজ কাজ করেন অজয়। পেশায় দিনমজুর তিনি। অজয় পুলিশকে জানান তাঁর কোনও মোবাইল ফোন নেই। সাধারণত সপ্তাহে একবার বা দু’বার সহকর্মীদের ফোন থেকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। শুক্রবার সকালে পুলিশ যখন তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে ইটভাটায় আসেন, তখন অজয়ও তাদের সঙ্গে আসেন। ইটভাটা থেকেও পুলিশকে জানানো হয় এ আসল অজয়।
প্রসঙ্গত, উত্তরপ্রদেশে এই ধরণের ঘটনা এই প্রথম নয়। গত কয়েক বছরে, একাধিক ঘটনার কথা জানা গিয়েছে যেখানে আত্মীয়স্বজন, স্থানীয় রাজস্ব আধিকারিকদের সঙ্গে যোগসাজশ করে পৈতৃক সম্পত্তির অংশ দখলের জন্য কাউকে না কাউকে মৃত ঘোষণা করেছেন। আজমগড়, প্রতাপগড় এবং উন্নাওয়ের মতো জেলাগুলিতে বেশ কয়েকটি জমি বিরোধের মামলায় ভুক্তভোগীদের আদালতে জীবিত প্রমাণ করতে হয়েছে। দেখা যেত সরকারি রেকর্ডেও তারা মৃত তালিকাভুক্ত।