নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়া দিল্লি: পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর নরেন্দ্র মোদি সরকারের সমালোচনা করছে কংগ্রেস। বলা হচ্ছে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধি যে নেতৃত্ব প্রদর্শন করেছিলেন তা করতে পারলেন না বর্তমান প্রধানমন্ত্রী। এই পরিস্থিতিতে মুখ খুললেন কংগ্রেসের প্রবীন নেতা শশী থারুর। তিনি বললেন ১৯৭১ এবং ২০২৫ সালের পরিস্থিতি এক নয়।
এক সর্বভারতীয় সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শশী বলেন, “আমার মনে হয়, আমরা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছিলাম যেখানে উত্তেজনা অকারণে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছিল। আমাদের জন্য শান্তি প্রয়োজন। সত্য হল ১৯৭১ সালের পরিস্থিতি আর ২০২৫ সালের পরিস্থিতি এক নয়। পার্থক্য রয়েছে।”
তাঁর আরও সংযোজন, “আমরা অনেক কষ্ট পেয়েছি। পুঞ্চের জনগণকে জিজ্ঞাসা করুন, কতজন মারা গিয়েছে। আমি বলছি না যে আমাদের যুদ্ধ বন্ধ করা উচিত। কিন্তু যখন যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার কারণ থাকে, তখনই তা চালানো উচিত। এই যুদ্ধ তো এমন ছিল না যা আমরা চালিয়ে যেতে চেয়েছিলাম। আমরা কেবল সন্ত্রাসীদের শিক্ষা দিতে চেয়েছিলাম। সেই শিক্ষাই দেওয়া হয়েছে।”
প্রবীন কংগ্রেসী নেতার বক্তব্যে হঠাৎ যেন মোদি সরকারের প্রতি বিশ্বাসের কথা শোনা গিয়েছে। শশী স্পষ্ট জানিয়েছেন যে তিনি নিশ্চিত সরকার পহেলগাঁও সন্ত্রাসী হামলায় জড়িত সন্ত্রাসীদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাবে। তাঁর কথায়, “এটা অপরিহার্য। কিন্তু রাতারাতি তো ঘটতে পারে না, মাস, বছর পেরিয়ে সময় লাগতে পারে। কিন্তু আমাদের এটা করতেই হবে। নিরীহ ভারতীয় সাশারণ মানুষকে হত্যা করে কাউকে পার পেতে দেওয়া উচিত নয়। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে আমরা পুরো জাতিকে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের ঝুঁকির মধ্যে ফেলব। আমি মনে করি এই পর্যায়ে শান্তিই সঠিক পথ।”
কংগ্রেস নেতা ১৯৭১ সালের বিজয়কে একটি ‘মহৎ অর্জন’ বলে বর্ণনা করে বলেছেন যে সেদিনের সেই জয়ের জন্য তিনি আজও গর্বিত। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধিকে নয়া মানচিত্রের রূপকার আখ্যা দিয়ে শশী বলেছেন, “ইন্দিরা গান্ধি উপমহাদেশের মানচিত্রের পুনর্লিখন করেছিলেন। কিন্তু তখন পরিস্থিতি ভিন্ন ছিল। আজকের পাকিস্তানের পরিস্থিতি ভিন্ন। তাদের সরঞ্জাম, সামরিক সরঞ্জাম, তারা যে ক্ষতি করতে পারে, সবকিছুই ভিন্ন।”
যুদ্ধে ভারতের ভূয়সী প্রশংসা করে শশী থারুর বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, ভারত কোনও পর্যায়েই ৭ মে-এর কর্মকাণ্ডকে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের সূচনা হিসেবে দেখেনি। যদি পাকিস্তান তীব্র না হত, তাহলে আমরাও তীব্র হতাম না। পাকিস্তান যা করেছিল, আমরাও তাই করেছি। পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছিল যেখানে যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে আমরা অকারণে আটকা পড়তাম। আর যুদ্ধের শেষ কবে হবে তা নিয়েও তো কোনও স্পষ্ট লক্ষ্য ছিল না। বাংলাদেশকে মুক্ত করার সময় আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট ছিল। পাকিস্তানের দিকে কেবল গোলাবর্ষণ চালিয়ে যাওয়া কোনও স্পষ্ট লক্ষ্য নয়। অর্থাৎ পার্থক্য দৃশ্যতই স্পষ্ট।”
প্রসঙ্গত, যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হওয়ার পরপরই, কংগ্রেসের অফিশিয়াল হ্যান্ডেল সহ কংগ্রেস নেতারা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধির ছবি শেয়ার করেন। লেখেন, ১৯৭১ সালের যুদ্ধে ভারতকে জয়ের দিকে নিয়ে গিয়েছিলেন ইন্দিরা। স্পষ্টতই এই পোস্টগুলি ছিল প্রধানমন্ত্রী মোদির প্রতি কটাক্ষ। বিজেপি মুখপাত্র গৌরব ভাটিয়া প্রতিক্রিয়ায় লেখেন ২৬/১১ মুম্বাইয়ের সন্ত্রাসী হামলার পর তৎকালীন ইউপিএ সরকার কী পদক্ষেপ নিয়েছিল। কংগ্রেস যুদ্ধবিরতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সর্বদলীয় বৈঠকের দাবি জানিয়েছেন।