নিজস্ব প্রতিনিধি, ইন্দোর: জোর করেই স্বামী রাজা রঘুবংশীকে মধুচন্দ্রিমায় নিয়ে গিয়েছিলেন সোনম রাজবংশী। তার পরে পূর্ব পরিকল্পনা মতোই ভাড়াটে খুনিদের দিয়ে সরিয়ে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন স্বামীকে। ইতিমধ্যেই উত্তরপ্রদেশ পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন সোনম। আর বউমার ওই কীর্তির কথা জানতে পেরেই ক্ষোভে ফুঁসছেন শাশুড়ি উমা রঘুবংশী।
সোমবার (৯ জুন) সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমার ছেলেকে জোর করে শিলং নিয়ে গিয়েছিল সোনম। নিজেই বিমানের টিকিট কেটেছিল। এমনকি সোনার চচেন ভারী গয়নাও সঙ্গে নেওয়ার বায়না ধরেছিল। ওই রাক্ষুসিই পরিকল্পনা করে খুন করেছে। আমার ছেলেকে খুন করার জন্য ওর ফাঁসি চাই।’
গত ১১ মে রাজা রঘুবংশীর সঙ্গে সাত পাকে বাঁধা পড়েছিল সোনম। পরের দিন ২০ তারিখেই মধুচন্দ্রিমার উদ্দেশে বেরিয়ে পড়েন দুজনে। ২৩ তারিখ থেকে আর তাঁদের কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। ইন্দোর থানায় এ বিষয়ে মিসিং ডায়েরি দায়ের করা হয়। ইন্দোর পুলিশের অনুরোধে তদন্ত শুরু করে মেঘালয় পুলিশ। গত ২ জুন রাজার দেহ পাওয়া যায় ওয়েইসডং জলপ্রপাতের কাছ থেকে। রক্তমাখা একটি কালো বর্ষাতি এবং দা-ও পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু তাঁর পরনে সোনার আংটি এবং সোনার চেন গায়েব ছিল। রাজার দেহ উদ্ধারের পরেও সোনমের খোঁজ না-পাওয়ায় অনেকেই মনে করেছিলেন, মেঘালয়ে গিয়ে দুষ্কৃতীদের কবলে পড়েছিলেন নবদম্পতি। সোনমকে হয়তো অপহরণ করা হয়েছে। বাংলাদেশে পাচারের আশঙ্কাও করা হচ্ছিল। সোনমের পরিবার প্রথম দিন থেকে সিবিআই তদন্তের দাবিতে সরব হয়েছিল। মেঘালয় পুলিশের তদন্তে অসন্তোষও প্রকাশ করেছিল।
কিন্তু ঘটনা আচমকাই নাটকীয় মোড় নেয়। পুলিশ নিশ্চিত হয়, ভাড়াটে খুনি দিয়েই স্বামীকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিয়েছেন সোনম। রাজাকে খুনের অভিযোগে ইন্দোর থেকে দুজনকে গ্রেফতার করে মেঘালয় পুলিশ। তার পরেই উত্তরপ্রদেশে আত্মসমর্পণ করেন সোনম। কিন্তু কেন তিনি স্বামীকে খুন করলেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়।