নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়া দিল্লি: কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধি শুক্রবার কেন্দ্রীয় সরকারের বিদেশ নীতিকে ‘ব্যর্থ’ বলে অভিহিত করেছেন। সেই সঙ্গে বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করকে তীব্র আক্রমণ করেছেন। লোকসভার প্রধান বিরোধী দলনেতা একজন বিদেশি সাংবাদিককে দেওয়া জয়শঙ্করের সাক্ষাৎকারের কিছু অংশ সম্বলিত একটি ভিডিও পুনরায় পোস্ট করেছেন। সেটি আবার কংগ্রেস তাদের ‘X’ হ্যান্ডেলে শেয়ার করেছে।
রাহুল গান্ধি x-হ্যান্ডেলে বিদেশমন্ত্রীর কাছে তিনটি প্রশ্ন রেখেছেন। লিখেছেন, “জয়শঙ্কর কি ব্যাখ্যা করবেন কেন ভারতকে পাকিস্তানের সাথে যুক্ত করা হচ্ছে? কেন একটি দেশও পাকিস্তানের নিন্দা করে আমাদের সমর্থন করেনি? আর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে “মধ্যস্থতা” করতে বলা হয়েছে, কে তাঁকে এটা করতে বলেছে?”
রায়বেরিলির সাংসদের দাবি ভারতের বিদেশ নীতি ভেঙে পড়েছে। জয়শঙ্করের ওই সাক্ষাৎকারের কিছু অংশের একটি ভিডিও শেয়ার করে কংগ্রেস বলেছে, ‘ বিদেশমন্ত্রীর জিহ্বা বারবার জড়িয়ে যাচ্ছে কেন? এই সাক্ষাৎকারে জয়শঙ্করকে বেশ কয়েকটি বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল, যার মধ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমেরিকান ‘মধ্যস্থতা’র দাবিও অন্তর্ভূক্ত ছিল। সাক্ষাৎকারে ভারতের বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর পহেলগাঁও আক্রমণ এবং ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা সম্পর্কিত প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিলেন।
সেই প্রসঙ্গ টেনে গান্ধি বলেন, ভারতের বিদেশ নীতি ভেঙে পড়েছে। বৃহস্পতিবারও রাহুল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে লক্ষ্য করে বলেছিলেন যে তিনি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ বন্ধ করে দিয়েছেন এবং ট্রাম্পের চাপের কাছে নতি স্বীকার করেছেন। এর ফলে ভারতের স্বার্থ বিসর্জিত হয়েছে।
কংগ্রেস নেতারা বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। তারা জয়শঙ্করকে ‘জয়চাঁদ জয়শঙ্কর’ নামে ডাকতে শুরু করেছে। এই জয়চাঁদ নামটি ঐতিহাসিক গল্প ‘পৃথ্বীরাজ রাসো’ থেকে নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই কংগ্রেস নেতারা জয়শঙ্করের অপসারণের দাবি জানিয়েছেন।
কংগ্রেসের অভিযোগ অপারেশন সিঁদুর অভিযানের আগে জয়শঙ্কর পাকিস্তানকে সতর্ক করেছিলেন। বিজেপিও পাল্টা জবাব দিয়েছে। তারাও রাহুল গান্ধিকে ‘আধুনিক মীরজাফর’ বলে অভিহিত করছেন। উভয় দলই সোশ্যাল মিডিয়ায় একে অপরকে আক্রমণ করেছে। কংগ্রেস নেতার বিরুদ্ধে এমনকি রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ এনে মিমও শেয়ার করা হয়েছে।