নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: শেখ হাসিনা জমানার অবসানের পরেই বাংলাদেশ জুড়ে শুরু হয়েছে হিন্দু নিধন যজ্ঞ। গত তিন মাস ধরে ধর্মীয় মৌলবাদীদের হামলা-নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যরা। ওই হিন্দু নির্যাতন নিয়ে ফের মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূসের সরকারকে কড়া বার্তা দিল মোদি সরকার। বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল সম্প্রতি চট্টগ্রামে এক ফেসবুক পোস্ট ঘিরে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপরে চলা নির্মম নির্যাতনের নিন্দা করে বলেন, ‘চট্টগ্রামে সম্প্রতি হিন্দু সম্প্রদায়ের উপরে ধর্মীয় মৌলবাদীরা (পড়ুন মুসলিম মৌলবাদীরা) যে হামলা চালিয়েছে, তার নিন্দা জানাচ্ছি। ধর্মীয় মৌলবাদীদের হাত থেকে হিন্দু সম্প্রদায়কে রক্ষা করার জন্য বাংলাদেশ সরকারকে বলা হয়েছে।’
গত ৫ অগস্ট সেন আ বিদ্রোহের মুখে বাংলাদেশ ছেড়ে পালিয়ে ভারতে চলে আসেন সে দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধু কন্যা ক্ষমতাচ্যূত হওয়ার পরেই নখদাঁত বের করে হিন্দু-সহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপরে ঝাঁপিয়ে পড়ে জামায়াত ইসলামী, হেফাজতে ইসলামী-সহ একাধিক ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলের সন্ত্রাসীরা। হিন্দুদের বাড়ি-ঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাট চালানোর পরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। বাদ যায়নি হিন্দুদের মন্দিরও। খুলনা, নারায়ণগঞ্জ-সহ একাধিক জায়গায় হিন্দু মন্দির ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। মুসলিম মৌলবাদীদের সন্ত্রাস আর হুমকির মুখে ভিটেমাটি ছেড়ে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে ভারতেও ঢুকে পড়েছেন অনেক হিন্দুরা। দেশ জুড়ে হিন্দু নির্যাতন চললেও চোখে ঠুলি পরে বসে রয়েছে মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার।
সম্প্রতি দিওয়ালির দিন বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপরে চলা নির্যাতনের কড়া নিন্দা করেছিলেন হবু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হিন্দুদের উপরে আক্রমণকে বর্বরোচিত বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। কিন্তু তাতেও পরিস্থিতির বিন্দুমাত্র পরিবর্তন হয়নি। উল্টে হিন্দু নির্যাতন নিয়ে সরব হওয়ায় ইসকনের চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক চিন্ময় দাস ব্রহ্মচারী-সহ একাধিক হিন্দু নেতার বিরুদ্ধে দেশদ্রোহের মামলা দায়ের হয়েছে। শুধু তাই নয়, সম্প্রতি এক ফেসবুকে ইসকন-সহ হিন্দুদের হুমকি দেয় ইসলামিক যোদ্ধা নামে একটি কট্টর মৌলবাদী সংগঠন। এ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষও বেঁধে যায়। ঘটনার পরেই বেশ কয়েকজন হিন্দু যুবককে তুলে নিয়ে যায় সেনাবাহিনীর সদস্যরা। এখনও তাদের হদিশ মেলেনি।
এদিন সাপ্তাহিক সাংবাদিক সম্মেলনে বিদেশ মন্ত্রকের রণধীর জয়সোয়াল চট্টগ্রামের ঘটনা নিয়ে মুখ খোলেন। তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামে হিন্দুদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘উত্তেজনা সৃষ্টিকারী’ পোস্ট দেওয়া হয়েছে। হিন্দু সম্প্রদায় এবং তাঁদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো হয়েছে। আমরা জানতে পেরেছি যে এসব ঘটনার পিছনে চরমপন্থীরা রয়েছে। সরকার বেশ কয়েকটি ভিডিও দেখেছে, যেগুলোতে চট্টগ্রামে হিন্দুদের ওপর হামলা ও ভয় দেখানো এবং হিন্দুদের ধর্মীয় সংগঠনগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে হামলার চিত্র উঠে এসেছে। এটা নিন্দনীয়।’ বাংলাদেশে হিন্দুদের উপরে চলা নির্যাতন বন্ধ করে নিরাপত্তা নিশ্চিতে জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য ঢাকাকে বার্তা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।