নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি : রবিবার বিশিষ্ট মার্কিন গবেষক লেক্স ফিডম্যানের একটি পডকাস্টে অংশ নিয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলিকে একহাত নিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর বক্তব্য এই সংস্থাগুলি বিশ্বব্যাপী চলতে থাকা লড়াই ও উত্তেজনাকে প্রশমিত করতে ভুলে গিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে প্যালেস্টাইন-ইজরায়েল সংঘাত, চিন-মার্কিন উত্তেজনার মতো বিষয় নিয়ে বিশ্ব এই মুহূর্তে চর্চায় মুখর হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্ন, এই দ্বন্দ্ব প্রশমনে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির ভূমিকা কী? মোদির মতে, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি বর্তমানে প্রায় অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে কারণ তাদের মধ্যে বিন্দুমাত্র সংস্কার অবশিষ্ট নেই।
ফিডম্যানের পডকাস্ট থেকে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলিকে কার্যত খোঁচা দিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন,“বৈশ্বিক সমস্যা সমাধানের জন্য একসময় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি গঠিত হয়েছিল। বর্তমানে সেগুলি প্রায় অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে। এখন সংস্থাগুলির মধ্যে বিন্দুমাত্রও সংস্কার অবশিষ্ট নেই। আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ তার সঠিক কাজ করতেই ভুলে গিয়েছে। আইন কানুনের তোয়াক্কা না করেই মানুষ যথেচ্ছাচার করছে, তাদের থামানোর মতো কেউ নেই।”
এই পডকাস্টেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মনে করিয়ে দিয়েছেন কোভিড-১৯ মহামারী থেকে প্রাপ্ত শিক্ষার কথা। সেই সঙ্গে বিশ্বব্যাপী উত্তেজনার মধ্যে জোর দিয়েছেন ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার উপর। তাঁর কথায়,“কোভিড আমাদের সকলের সীমাবদ্ধতাকে প্রকাশ্যে উন্মোচিত করেছে। আমরা নিজেদেরকে যতই মহান জাতি, অত্যন্ত প্রগতিশীল, বৈজ্ঞানিকভাবে উন্নত ভাবি না কেন, প্রত্যেকেই তাদের নিজস্ব উপায়ে কোভিড-১৯ এর মোকাবিলা করেছ। কোভিড বিশ্বের প্রতিটি দেশকে এক স্তরে নামিয়ে এনেছিল। সেখানে কোনও উন্নত অনুন্নতর ভেদাভেদ ছিল না। তখন মনে হয়েছিল যে পৃথিবী এর থেকে শিক্ষা নিয়ে এক নতুন বিশ্ব ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাব। দুর্ভাগ্যবশত পরিস্থিতি এমন হল যে শান্তির দিকে এগিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে, বিশ্বে নেমে এল অনিশ্চয়তা, যুদ্ধ যা মানুষকে আরও বেশি করে সমস্যায় ফেলল।”
ফিডম্যানের পডকাস্ট থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সারা বিশ্বকে সংঘাত থেকে সহযোগিতার দিকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যের প্রতিটি ছত্রে শোনা গিয়েছে একাতার ধ্বনি। “আমি আগেই বলেছি, পৃথিবী একে অপরের প্রতি নির্ভরশীল, একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত। সকলেরই সকলকে প্রয়োজন, কেউ একা কিছু করতে পারে না। আমি এও দেখছি, যেখানেই যাচ্ছি সেখানে সকলেই সংঘাত নিয়ে চিন্তিত। আমরা আশা রাখি খুব শীঘ্রই এর থেকে মুক্তি পাব।”- এভাবেই বিশ্বকে সংঘাত থেকে শান্তির পথে ফেরার ডাক দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি।
প্রসঙ্গত, কয়েক দশক ধরে, ভারত যুক্তি সহকারে দাবি করছে যে তারা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য হওয়ার যোগ্য। নয়াদিল্লির বক্তব্য ১৯৪৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ১৫-জাতির কাউন্সিল একবিংশ শতাব্দীতে তার উদ্দেশ্যসাধনের জন্য উপযুক্ত নয়।বর্তমানে, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ৫টি স্থায়ী সদস্য এবং ১০টি অস্থায়ী সদস্য দেশ রয়েছে, যারা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ দ্বারা দুই বছরের জন্য নির্বাচিত হয়। পাঁচটি স্থায়ী সদস্য হল রাশিয়া, গ্রেট ব্রিটেন, চিন, ফ্রান্স এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এদের যে কোনও গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবে ভেটো প্রদান করার ক্ষমতা রয়েছে। ব্রিটেন, ফ্রান্স এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের অন্তর্ভুক্তির পক্ষে তাদের সমর্থন জানিয়েছে।