নিজস্ব প্রতিনিধি: রবিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তামিলনাড়ুর রামেশ্বরম দ্বীপকে সংযুক্ত করলেন রেলপথের মাধ্যমে। সপ্তাহ শেষে রামনবমীর দিন তাই উদঘাটন হল নতুন পাম্বান সেতুর। এটি ভারতের প্রথম উল্লম্ব সেতু বা ভার্টিক্যাল ব্রিজ। আগামী ১০০ বছর ৮০ কিলোমিটার গতিবেগে প্রতি ঘণ্টায় ট্রেন চলাচলের জন্য উপযুক্ত এই পাম্বান সেতু। প্রধানমন্ত্রী ২০১৯ সালে এই সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। ৫ বছর ধরে সমুদ্রের উপর দিয়ে এর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে।
- ২.০৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতুটি নানা দিক থেকেই বিশেষ। এতে ১৮.৩ মিটারের ৯৯টি স্প্যান এবং ৭২.৫ মিটারের একটি উল্লম্ব লিফট স্প্যান রয়েছে। এটি পুরনো সেতুর থেকে ৩ মিটার উঁচু, যার ফলে বড় জাহাজগুলি সহজেই এর মধ্য দিয়ে যেতে পারে।
- এই সেতুতে অ্যান্টি কোরোজন প্রযুক্তির ব্যবহার হয়েছে। সেই সঙ্গে পলিসিলোক্সেন পেইন্ট, উন্নত মানের স্টেনলেস স্টিল এবং ফাইবার রিইনফোর্সড প্লাস্টিক ব্যবহার করা হয়েছে। এগুলি সবকটিই সেতুর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে।
- এই সেতুর নির্মাণ নকশা এবং সার্টিফিকেশনের ক্ষেত্রে ভারতের প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে।
- নতুন পাম্বান সেতুটি ১০০ বছর ধরে ৮০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতিতে ট্রেন চলাচলের জন্য নিরাপদ।
- তবে পাম্বান সেতুতে ট্রেন ১৬০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা বেগেও চলতে পারে।
- জাহাজ চলাচলের সময় সেতু মাঝখান থেকে খুলে যাবে। সেক্ষেত্রে সময় লাগবে মাত্র ৫ মিনিট। ৩ মিনিটের মধ্যে আবার সেতু বন্ধ করা যাবে।
- ২.০৭ কিলোমিটার দীর্ঘ, ৭২.২ মিটার প্রশস্ত সেতুটি ৫ বছরে সম্পন্ন হয়েছে। পাম্বান সেতু নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৫৩৫ কোটি টাকা।
রেলের তথ্য ও সম্প্রচার বিভাগের নির্বাহী পরিচালক দিলীপ কুমার বলেন, গত ১০ বছরে দেশ বহু ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে। ভারতীয় রেলও নতুন রেকর্ড গড়েছে। বন্দে ভারত, অমৃত ভারত এবং নমো ভারত দেশকে এক নতুন মাত্রা দিয়েছে। কাশ্মীরে সরাসরি রেল পরিষেবার জন্য চন্দ্রভাগা অর্থাৎ চেনাবের উপর আঞ্জি সেতু নির্মাণ দেশের গর্ব বাড়িয়েছে।
একইভাবে, দক্ষিণে রামেশ্বরমকে মূল ভূখণ্ডের সাথে সংযুক্ত করে পাম্বান সেতু দেশের পরিকাঠামোকে একটি নতুন পরিচয় এনে দিয়েছে। বৃহৎ প্রকল্পগুলির সফল সমাপ্তি প্রমাণ করে যে দেশের উন্নয়ন দ্রুত সঠিক পথে এগিয়ে চলেছে। সমুদ্রের উপর সেতু নির্মাণ করা অনেক কঠিন কাজ ছিল।