দুপুর ঠিক ১টায় সমুদ্র থেকে উঠে আসে শিবলিঙ্গ, জানেন কোথায় ঘটে এমন অলৌকিক কাণ্ড

Share:

পৃথ্বীজিৎ চট্টোপাধ্যায়: ধর্মীয় ঐতিহ্যের দেশ ভারতের নানা জায়গায় শিবমন্দির বর্তমান। দেবাদিদেবের এই সমস্ত মন্দিরের অধিকাংশের সৃষ্টির নেপথ্যেই রয়েছে নানা পৌরাণিক গল্পগাঁথা। এমন কী এই সমস্ত মন্দিরের পৌরাণিক ইতিহাস ঘাটলে জানতে পারা যায় যে, মহাভারতের বনপর্বে পঞ্চপাণ্ডবেরা অজ্ঞাতবাসে থাকাকালীন শ্রীকৃষ্ণের আদেশানুসারে বেশ কিছু শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তবে সেগুলি ছাড়াও তার বেশ কিছু সময় বাদে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ জয়ের পরেও নাকি পঞ্চপাণ্ডব শিবপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন। জানা যায়, পঞ্চপাণ্ডবের প্রতিষ্ঠা করা দিউয়ের নিকটবর্তী ফাদুম গ্রামের গঙ্গেশ্বর মহাদেবের মতোই আরব সাগরের বুকেই লুকিয়ে আছেন আরেক শিবলিঙ্গ, যাঁর নাম নিষ্কলঙ্ক মহাদেব (Nishkalank Mahadev Temple)। তাঁর দর্শন পাওয়ার আশায় ক্যাম্বে উপসাগর এবং খাম্বাট উপসাগরের মধ্যে থাকা কোলিয়াক সৈকতে আজও ভিড় জমান অসংখ্য ভক্তপ্রাণ মানুষ। এই সৈকতেরই পশ্চিম দিকে আরব সাগরের দুই কিলোমিটার ভিতরে রয়েছে সেই বিরল শিবমন্দির।

প্রচলিত কাহিনী থেকে জানা যায়, কুরুক্ষেত্র যুদ্ধ জয়ের পরে অনুশোচনা কুরে কুরে খাচ্ছিল পাণ্ডবদের। শত-শত ভাই, বন্ধু, আত্মীয় স্বজনদের মৃত্যুর জন্য নিজেদেরই দায়ী বলে মনে করছিলেন তাঁরা। সেই সময় তাঁদের সহায় হন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ। পঞ্চপাণ্ডবকে তিনি একটি কালো গোরু ও কালো পতাকা দিয়ে গোরুটিকে অনুসরণ করতে বলেন। শ্রীকৃষ্ণ বলেন, কোনও একদিন উভয়েরই রং কালো থেকে সাদায় বদলে যাবে। আর তখন সেই স্থানেই মহাদেবের তপস্যায় বসতে হবে তাঁদের। মহাদেব তুষ্ট হলে তবেই ঘটবে তাঁদের পাপমুক্তি। সেই মতোই কালো গোরুটিকে অনুসরণ করে চলেছিলেন পাণ্ডবেরা। দীর্ঘ পথ ঘুরে এই কোলিয়াক সৈকতে পৌঁছে হঠাৎই সাদা হয়ে যায় গোরু এবং পতাকার রং। কালবিলম্ব না করে তপস্যায় বসেন পাঁচ ভাই। সমুদ্রে জোয়ার আসে, ক্রমশ জলের নিচে তলিয়ে যান তাঁরা, তবুও তপস্যায় ছেদ পড়েনি। অবশেষে অত্যন্ত প্রসন্ন হন দেবাদিদেব। পাণ্ডবেরা দেখতে পান, সাগরের জল সরে গিয়েছে, আর সেখানে জেগে উঠেছে পাঁচটি শিবলিঙ্গ ও শিবের বাহন নন্দীর মূর্তি। এখানেই মন্দির প্রতিষ্ঠা করে পঞ্চলিঙ্গকে স্থাপন করেন পঞ্চপাণ্ডব। শিবের করুণায় কলঙ্ক থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন তাঁরা। তাই এই শিবলিঙ্গের নাম হয় নিষ্কলঙ্ক মহাদেব।

জানা যায়, গুজরাতের ভাবনগর এলাকায় অবস্থিত কোলিয়াক সৈকতের কাছে সেই মন্দির আজও রয়েছে। তবে দিনের অধিকাংশ সময়েই দেখা মেলে না এই শিব মন্দিরের। কেবল চোখে পড়ে সমুদ্রের জলস্তরের উপর উড়তে থাকা একটি পতাকা। ভাটার টান এলে ক্রমশ সরে যায় জল আর তখনই দেখা মেলে একটি পতাকার। জেগে ওঠে মন্দিরটি। আশ্চর্যের কথা হল, মন্দিরটির কোনও ছাদ কিংবা দেওয়াল নেই। বস্তুত, সমুদ্রের মধ্যে এক বিশাল পাথরের বেদির উপরে পাঁচটি ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় রয়েছে বিভিন্ন উচ্চতার পাঁচটি শিবলিঙ্গ। জনশ্রুতি আছে, নিষ্কলঙ্ক মহাদেবের ওই ধ্বজা যে কোনও বিপর্যয়ে অক্ষুণ্ণ থাকে। এমনকি ভুজের ভয়াবহ ভূমিকম্প বা সুনামির পরেও তা অক্ষত ছিল বলে জানা যায়। আর এই সব ঘটনা মিলিয়েই স্থানটির শৈবী মাহাত্ম্য আরও বেড়ে গিয়েছে। জনশ্রুতি আছে, এখানে স্নান করে পুজো দিলে পাণ্ডবদের মতোই পাপমুক্তি ঘটে বলে এই শিব মন্দিরকে নিষ্কলঙ্কেশ্বর শিব মন্দির বলা হয়ে থাকে। সারা বছরই অসংখ্য ভক্তরা ভিড় জমান এই সুপ্রাচীন মন্দিরে। উল্লেখ্য প্রতিদিন দুপুর  ১ টা থেকে রাত ১০টার মধ্যে সমুদ্রের জলস্তর মন্দিরের নিচে থাকে। তাই এই সময় গেলে ভক্তরা দেবাদিদেব মহাদেবের দর্শন পেতে পারেন।

শিবরাত্রি উপলক্ষে নেপালের পশুপতিনাথ মন্দিরে পুজো দিলেন ভারতের প্রাক্তন ৬ সেনাপ্রধান

ভোলানাথকে খুশি করতে চান ? মহাশিবরাত্রিতে এইকাজ অবশ্যই করুন…

ব্রাহ্মণ বেশে পার্বতীর কাছে এসেছিলেন স্বয়ং মহাদেব : জানুন হর-পার্বতীর বিবাহের অভূতপূর্ব কাহিনী 

কেন খুলেছিল  শিবের ত্রিনয়ন ? জানুন অজানা কাহিনী

মহা শিবরাত্রিতেই মিলন হয়েছিল হর-পার্বতীর, জানুন অজানা কাহিনী

লড়াই করেও গুজরাতের কাছে হেরে গেল কেকেআর

‘দিল্লি থেকে এল গাই, সাথে এল মোটা ভাই’, শাহ-এজেন্সিকে কটাক্ষ মমতার

‘‌আমি আইনি পদক্ষেপ করব’‌, এজেন্সির অপব্যবহার নিয়ে সুর সপ্তমে মমতার

হেশতলায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা! মালবাহী ট্রাকের ধাক্কায় ছিন্নভিন্ন মহিলার দেহ, গুরুতর আহত স্বামী

আফগানিস্তানে তীব্র ভূমিকম্প! হু হু করে মৃত্যু বেড়ে ২৫০, আহত ৫০০

সংগঠনে নজর দিতে আরামবাগ ও ঘাটালের নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক অভিষেকের

পাকিস্তানেই তৈরি হয় সন্ত্রাসবাদের ভিত্তি, চিনে নাম না করেই শাহবাজকে বিঁধলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি

[hls_player autoplay="1" fullscreen="1" unmute="0"]