নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: করোনাভাইরাসের পরে এবার গোটা বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ ছড়াচ্ছে মাঙ্কিপক্স। ইতিমধ্যেই বিশ্ব জুড়ে স্বাস্থ্যগত জরুরি অবস্থা জারি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। গতকাল রবিবার বিদেশ ফেরত এক যুবকের শরীরে মাঙ্কিপক্স শনাক্ত হয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। সোমবার অবশ্য স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, দেশে যে মাঙ্কিপক্স শনাক্ত হয়েছে তা বিচ্ছিন্ন ঘটনা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যে প্রজাতি নিয়ে স্বাস্থ্যগত জরুরি ব্যবস্থা জারি করেছে তার সঙ্গে আক্রান্তের শরীরে পাওয়া নমুনার কোনও মিল নেই। ফলে দেশে আপাতত মাঙ্কিপক্সের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়ার কোনও ঝুঁকি নেই।
২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে বিশ্বের ১২০টির বেশি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে মাঙ্কিপক্স। গত আড়াই বছরে মাঙ্কিপক্সে আক্রান্ত হয়ে ২২০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। সপ্তাহ তিনেক আগে আফ্রিকার ১২টি দেশে মাঙ্কিপক্স শনাক্ত হওয়ার পরেই জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক জরুরি অবস্থা জারি করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। বিদেশ থেকে আসা ব্যক্তিদের নিয়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রক। দেশে মাঙ্কিপক্সের প্রাদুর্ভাব রুখতে বিভিন্ন রাজ্যের স্বাস্থ্য কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন স্বাস্থ্য মন্ত্রকের শীর্ষ কর্তারা। এমনকি রাজ্যগুলির জন্য বিশেষ নির্দেশিকা জারি করা হয়।
এদিন স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, বিদেশ থেকে আসা এক যুবকের শরীরে মাঙ্কিপক্স শনাক্ত হয়েছে। ওই যুববকে একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং নিভৃতবাসে রাখা হয়েছে। ওই যুবকের শরীরে যে প্রজাতি শনাক্ত হয়েছে তা পশ্চিম আফ্রিকার ক্লেড-২। ২০২২ সালের জুলাই থেকে এখনও পর্যন্ত দেশে যে ৩০ জনের শরীরে মাঙ্কিপক্সের সংক্রমণ ধরা পড়েছে তাদের প্রত্যেকেই ওই প্রজাতির ভাইরাসে আক্রান্ত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ক্লেড-১ নিয়ে জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা জারি করেছে।’ স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে বলা হয়েছে, অকারণে মাঙ্কিপক্স নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনও কারণ নেই।