নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: পহেলগাঁওকাণ্ডের ‘বদলা’ নিতে ভারতের যে কোনও পদক্ষেপের পাশে থাকবে আমেরিকা। বৃহস্পতিবার (১ মে) প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহকে এমনই আশ্বাস দিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথে। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন ‘বিশ্ব ও আঞ্চলিক শান্তির জন্যই জঙ্গিদের শিঁকড় উপড়ে ফেলার প্রয়োজন।’ মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিবের এমন আশ্বাসে যথেষ্টই স্বস্তিতে মোদি সরকার। ‘প্রত্যাঘাতের’ হাত থেকে বাঁচতে পাকিস্তান সরকার মার্কিন শীর্ষ নেতাদের হাতে-পায়ে ধরলেও তাতে খুব একটা লাভ হয়নি বলেই মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।
গত ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে নিরীহ পর্যটকদের উপরে এলোপাথাড়ি গুলি চালিয়ে নারকীয় হত্যালীলা সংগঠিত করেছিল পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের মদতপুষ্ঠ জঙ্গি সংগঠন ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (টিআরএফ)’। ওই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বদলা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মোদি সরকার। ইতিমধ্যেই ভারতীয় সেনাকে প্রত্যাঘাতের পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গত কয়েক দিন ধরে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন তিনি।
ভারতের প্রত্যাঘাতের ভয়ে রীতিমতো ঠকঠকিয়ে কাঁপছে পাকিস্তান সরকার। আমেরিকা-সহ একাধিক দেশের শীর্ষ নেতাদের কাছে হত্যে দিয়েছে শাহবাজ শরিফের সরকারের প্রতিনিধিরা। দিল্লি ও ইসলামাবাদের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টাও চালাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ একাধিক দেশের শীর্ষ নেতারা। গতকাল বুধবারই ভারতের বিদেশ মন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও। তার ২৪ ঘন্টার মধ্যেই আসরে নেমেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথে। এদিন বিকেলেই ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন তিনি। সূত্রের খবর, মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিবকে রাজনাথ বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরেই সন্ত্রাসী সংগঠনগুলিকে সমর্থন, প্রশিক্ষণ এবং অর্থ সাহায্য করার ইতিহাস রয়েছে পাকিস্তানের। গত কয়েক দশক ধরে পাকিস্তান একটি দুর্বৃত্ত রাষ্ট্র হিসেবে গোটা বিশ্বের কাছে পরিচিতি পেয়েছে। পাকিস্তান হল সেই দেশ যারা বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবাদকে ইন্ধন জোগাচ্ছে এবং এই অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করছে। বিশ্ব আর সন্ত্রাসবাদের প্রতি চোখ বন্ধ করে থাকতে পারে না।’ ওই কথা শুনে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব বলেন ‘সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের লড়াইয়ে মার্কিন সরকারের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। আমেরিকা ভারতের আত্মরক্ষার অধিকারকে সমর্থন করে।’