নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: বিহারে বিধানসভা ভোটের আগে নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) পিছনে যে ‘ডাল মে কুছ কালা হ্যায়’, তা ক্রমশই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ‘বিশ্বাসযোগ্যহীন’ হয়ে ওঠা কমিশনের বিরুদ্ধে এসআইআরের নামে জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছে রাষ্ট্রীয় জনতা দল ও অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস (এডিআর)। সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা হলফনামায় আরজেডি ও এডিআরের তরফে দাবি করা হয়েছে, ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধনের নামে বড়সড় জালিয়াতি চালানো হয়েছে। বহু ক্ষেত্রে বুথ লেভেল অফিসাররা (বিএলও) সংশ্লিষ্ট ভোটারদের কাছে পৌঁছনোর পরিবর্তে নিজেরাই ভুয়ো সই করে ফর্ম জমা করেছেন। শুধু তাই নয়, মারা গিয়েছেন এমন ভোটারদের দিয়েও ফর্ম পুরণ করানো হয়েছে। যদিও জালিয়াতির অভিযোগ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের তরফে কোনও প্রতিক্রয়া জানানো হয়নি।
বিহারের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে ইতিমধ্যেই দায়ের হয়েছে একাধিক মামলা। আরজেডি-এডিআর সহ বেশ কয়েকটি সংগঠনের তরফে মামলা করা হয়েছে। ওই মামলার শুনানিও শুরু হয়েছে। শীর্ষ আদালত মামলা চলার মধ্যেই তড়িঘড়ি বিশেষ নিবিড় সংশোধনীর কাজ সম্পূর্ণ করে ফেলেছে নির্বাচন কমিশন। শীর্ষ আদালতে দায়ের করা হলফনামায় আরজেডি সাংসদ মনোজ ঝা-র তরফে দাবি করা হয়েছে, ‘বিহারে বহু মানুষকে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার অর্থাৎ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। ভোটারদের সম্মতি ছাড়া এবং তাদের সঙ্গে কথা না বলেই অনলাইনে ফর্ম পূরণ করেছেন বিএলও-রা। মৃতদের নামেও ফর্ম পূরণ করা হয়েছে।’
এলিআরের তরফে দাখিল করা হলফনামাতেও একই ধরনের অভিযগ করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, ‘ঘরে-ঘরে না গিয়ে বিএলও-রা নিজেদের মর্জিমাফিক ফর্ম পূরণ করেছে। জালিয়াতি যাতে না ধরা পড়ে তার জন্য ভোটারদের পূরণ করা ফর্মের নকল কপি দেওয়া হয়নি। ছবি ছাড়া বহু ভোটারের ফর্ম জমা করা হয়েছে। বিশেষ নিবিড় সংশোধনের নামে যা হয়েছে তা প্রহসন ছাড়া কিছু নয়।’ বিরোধীদের অভিযোগ, নরেন্দ্র মোদির দয়ায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদ বাগানো বিতর্কিত প্রাক্তন আমলা জ্ঞানেশ কুমার ও তার গ্যাং নিয়োগকারী প্রভুদের খুশি করতেই বিশেষ নিবিড় সংশোধনের নামে ভোটার তালিকা নিয়ে ছেলেখেলা শুরু করেছে।