নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: শেখ হাসিনা জমানার অবসানের পরেই বাংলাদেশে শুরু হয়েছে মৌলবাদী আর জঙ্গিদের দৌরাত্ম্য। প্রকাশ্যেই দাপিয়ে বেড়াচ্ছে হুজি, হিযবুত তাহরী, জামায়তুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) কুখ্যাত সন্ত্রাসীরা। এমনকী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের বিশেষ সহকারী হিসাবে নিয়োগ পেয়েছেন হিযবুত তাহরীর শীর্ষ জঙ্গি মাহফুজ আলম। আর এবার ঢাকায় এক ধর্মীয় সভায় হাজির ছিলেন হামাস, তালিবান ও পাকিস্তানের শীর্ষ জঙ্গি সংগঠনের শীর্ষ নেতারা। শুধু তাই নয়, জেএমবি-সহ একাধিক জঙ্গি সংগঠনের শীর্ষ পদাধিকারীদের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন তাঁরা। ওই বৈঠকে হাজির ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দুই সমন্বয়ক তথা ইসলামি ছাত্র শিবিরের শীর্ষ নেতা সারজিস আলম ও হাসনাত আবদুল্লাহ। ওই বৈঠকের খবর জানতে পেরেই রাতের ঘুম উবেছে ভারতীয় গোয়েন্দাদের। কী উদ্দেশে ওই বৈঠক করা হয়েছে, তার কারণ জানার চেষ্টা চালাচ্ছেন তাঁরা। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের আধিকারিকদের আশঙ্কা, ফের একবার ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্যে অশান্তি পাকানোর ষড়যন্ত্র চলছে।
গত ৭ অক্টোবর সোমবার ঢাকায় অল মারকুজুল ইসলামী নামে একটি কট্টর ভারত বিরোধী সংগঠনের তরফে এক ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। ওই অনুষ্ঠানের অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন ভারতে একাধিক নাশকতামূলক কাজকর্ম চালানোয় অভিযুক্ত মুফতি শহিদুল। কুখ্যাত জঙ্গি হিসাবে পরিচিত শহিদুল ইসলামকে ১৯৯৯ সালে খুলনায় আহমদিয়া সম্প্রদায়ের মসজিদে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটানোর মাস্টারমাইন্ড হিসাবে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ওই মামলায় ১৮ জন নিরীহ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। পরে জামিনে ছাড়া পেয়ে পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশে জঙ্গি প্রশিক্ষণ নেন তিনি। তার মধ্যে কুখ্যাত জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদার প্রশিক্ষণও ছিল।
সূত্রের খবর, গত সোমবার (৭ অক্টোবর) ঢাকায় আয়োজিত ধর্মীয় অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন ফিলিস্তিনি সন্ত্রাসী সংগঠন হামাসের সিনিয়র নেতা শেখ খালিদ কুদ্দিমী ও শেখ খালিদ মিশাল, পাকিস্তানের কুখ্যাত জঙ্গি নেতা শায়খুল ইসলাম, মুফতি তকী উসমানি ও মাওলানা ফজলুর রহমান। এছাড়াও আফগানিস্তানের কুখ্যাত সন্ত্রাসী সংগঠন তালিবানের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা হাজির ছিলেন।