নিজস্ব প্রতিনিধি: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের রূপশ্রী প্রকল্পের জনপ্রিয়তা নিয়ে আলাদা করে কিছু বলে দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। এই প্রকল্পে সাধারণ মধ্যবিত্ত, ও দুঃস্থ পরিবারের মেয়েদের বিয়ের জন্য খরচ বাবদ এককালীন ২৫ হাজার টাকা প্রদান করা হয় সরকারের তরফ থেকে। এই আর্থিক সাহায্যের কারণে উপকৃত হন বহু মানুষ। অথচ বাংলার বাইরে পা রাখলেই চিত্রটা বদলে যায়। বিশেষত, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে কল্যাণমুখী প্রকল্পের নামে শুধুই প্রতিশ্রুতি এবং ভুয়ো সুবিধা প্রদান করা হয়। সম্প্রতি তার প্রমাণ মিলল আবারও।
আরও পড়ুনঃ শিল্পপতিরাই পরম বন্ধু, ৫ বছরে ১০ লক্ষ কোটি টাকার কর্পোরেট ঋণ মকুব
দুঃস্থ পরিবারের ছেলেমেয়েদের বিয়ের সাহায্যার্থে গণবিবাহ প্রকল্প চালু করেছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। সে ভালো কথা। কিন্তু এর নেপথ্যেও লুকিয়ে রয়েছে দুর্নীতির বীজ। অভিযোগ উঠেছে, বিয়েতে নববধূদের হাতে উপহারস্বরূপ যেসব সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়েছে তা অত্যন্ত নিম্নমানের। শুধু তাই নয়, গণবিবাহে আসল গয়নার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বিয়ের সময়ে দেওয়া হয়েছে নকল গয়না। সাহায্যের নামে এহেন প্রতারণায় চরম ক্ষুব্ধ প্রকল্পের আওতাধীন কনেদের পরিবার।
গত মঙ্গলবার এক গণবিবাহের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করেই এই দুর্নীতির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এদিন প্রায় ৫৪৩ জনের গণবিবাহের আয়োজন করা হয়েছিল। অভিযোগ উঠেছে, তাঁদের নকল গয়নার পাশাপাশি অতি নিম্নমানের জিনিসপত্র দেওয়া হয়েছে। তালিকায় রয়েছে খারাপ প্রেসার কুকার, অত্যন্ত নিম্নমানের লিপস্টিক, আয়না ও শাড়ি। প্রকল্পের জন্য নির্দিষ্ট অর্থ বরাদ্দ থাকার সত্ত্বেও এই ধরনের দুর্নীতি কীভাবে হল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে কি দুর্নীতির টাকা ঢুকেছে সেখানকার নেতা-মন্ত্রীদের পকেটে? কিছুই অসম্ভব নয়।
আরও পড়ুনঃ শপথের আগেই ট্রাম্পের হবু মন্ত্রীদের বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি
বিষয়টি জানাজানি হতেই নড়েচড়ে বসেছেন বস্তির জেলাশাসক রবিশ কুমার গুপ্তা। তড়িঘড়ি পুরো বিষয়টির তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন জেলাশাসক। যদিও ঘটনার জেরে এখনও পর্যন্ত কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা সম্ভব হয়নি।