নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: চলতি বছরের শেষের দিকে বিহার বিধানসভার ভোট। সামনের বছর পশ্চিমবঙ্গ, কেরল-সহ পাঁচ রাজ্যেরও ভোট রয়েছে। আর ওই ভোটের আগেই জোর ধাক্কা খেতে চলেছে কংগ্রেস। দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন হাত শিবিরের দুই পরিচিত নেতা শশী থারুর ও সলমন খুরশিদ। দুই নেতার সঙ্গেই বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বের কথাবার্তা চূড়ান্ত হয়েছে। দলবদলের ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি শর্ত দিয়েছেন তাঁরা। সেই শর্ত মেনেও নিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি-জেপি নাড্ডা ও অমিত শাহরা। ফলে শশী ও সলমনের দলবদল এখন শুধু সময়েরই অপেক্ষা।
সূত্রের খবর, কেরল বিধানসভার ভোটের প্রাক্কালেই শশী থারুরকে পদ্ম শিবিরে সামিল করানো হবে। দলের মুখ্যমন্ত্রী মুখ হিসাবে তাঁকে তুলে ধরেই প্রচার চালাবে বিজেপি। গতবার বিধানসভা ভোটে ‘মেট্রো ম্যান’ হিসাবে পরিচিত শ্রীধরনকে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসাবে তুলে ধরে ভোটে ঝাঁপিয়েছিল বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব। যদিও তাতে লাভ হয়নি। কেননা নবতিপর ও অশক্ত শরীরের শ্রীধরনের উপরে ভরসা রাখতে পারেনি কেরলের তরুণ ও যুব প্রজন্ম। তাই এবার ঝাঁ-চকচকে চেহারার ও সপ্রতিভ শশী থারুরের উপরেই বাজি লাগানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহরা। বেশ কয়েক দফায় বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকের পরে কংগ্রেস ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছন থারুর। আর সেই কারণে লাগাতার দলীয় নীতির বাইরে গিয়ে মোদি ও বিজেপি সরকারের ভজনা করে চলেছেন। তাঁর লক্ষ্য, ‘শহিদ’ তকমা নিয়ে কংগ্রেস থেকে বিতাড়িত হওয়া। যাতে নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র তিরুঅনন্তপুরম-সহ কেরলবাসীর কাছে তিনি সহানুভূতি পান। বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বের পরিকল্পনামতো, সময় যত গড়াবে অর্থাৎ বিধানসভার ভোট যত এগিয়ে আসবে ততই কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সুর চড়াবেন শশী রাহুল গান্ধি ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধিকেও ব্যক্তিগত নিশানা করবেন।
সূত্রের খবর, শশীর পাশাপাশি সলমন খুরশিদকেও দলে টানার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব। গত মে মাসেই একাধিকবার বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিন। দলবদলের পুরস্কার হিসাবে রাজ্যসভার সাংসদ পদ বা সংখ্যালঘু কমিশনের শীর্ষ পদ দাবি করেছেন তিনি। ওই দাবি বিবেচনা করে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন অমিত শাহরা। কিন্তু দল ছাড়ার আগে কংগ্রেস নেতৃত্ব বিশেষ করে রাহুল গান্ধি ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধিকে নিশানা করে লাগাতার আক্রমণ শানানোরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে খুরশিদ। কংগ্রেস নাম না পাঠানো সত্বেও ও সলমনকে ‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে বিদেশে দরবার করতে যাওয়া প্রতিনিধিদলে রাখা হয়েছে। এর আগেই কংগ্রেস ছেড়েছেন কপিল সিব্বল-গুলাম নবি আজাদের মতো গান্ধি পরিবারের কট্টর সমালোচক। এবার তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করতে চলেছেন শশী থারুর-সলমন খুরশিদরাও