নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধিকে জাত তুলে আক্রমণকে সমর্থন করায় এবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে স্বাধিকার ভঙ্গের প্রস্তাব আনল কংগ্রেস। বুধবার পঞ্জাবের জলন্ধরের কংগ্রেস সাংসদ চরণজিৎ সিং চান্নী লোকসভার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে স্বাধিকার ভঙ্গের নোটিশ জমা দিয়েছেন।
গতকাল মঙ্গলবারই লোকসভায় দাঁড়িয়ে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধির নাম না করে তাঁর জাত তুলে অশালীন আক্রমণ করেছিলেন মোদি মন্ত্রিসভা থেকে গলা ধাক্কা খাওয়া বিজেপি সাংসদ অনুরাগ ঠাকুর। রাহুলের নাম না করে তাঁর জাতগণনার দাবি প্রসঙ্গে তিনি বেনজির আক্রমণ করে বলেছিলেন, ‘যার জাতের ঠিক নেই, তিনি এখন জাতগণনার কথা বলছেন।’ হিমাচল প্রদেশের হামিরপুরের সাংসদের ওই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানান বিরোধী সাংসদরা। যদিও অনুরাগের ওই ব্যক্তিগত আক্রমণকে পাত্তাই দেননি লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি। পাল্টা তিনি বলেন, ‘এ দেশে বঞ্চিত, গরিবের জন্য যে মুখ খুলেছে, তাকে গালিগালাজ শুনতে হয়েছে। আপনারা আমায় যত অপমান করুন, আমি ক্ষমা চাইতে বলব না। কিন্তু এই সংসদে জাতগণনা পাশ করিয়ে ছাড়ব।’ বিরোধীদের দাবির মুখে বিজেপি সাংসদ অনুরাগ ঠাকুরের বক্তৃতার কিছু অংশ সভার কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেন লোকসভার অধ্যক্ষ।
কিন্তু দলীয় সাংসদ অনুরাগ ঠাকুর বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধিকে জাত তুলে গালিগালাজ দেওয়ায় বেজায় খুশি হয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রাতে সমাজমাধ্যমে নিজের হ্যান্ডলে অনুরাগের অসম্পাদিত বক্তৃতার পুরো ভিডিয়ো পোস্ট করেন। শুধু তাই নয়, জাত তুলে রাহুলকে গালিগালাজ দেওয়া অনুরাগ ঠাকুরের ভূয়সী প্রশংসাও করেন। সেই সঙ্গে রাহুলকে জাত তুলে আক্রমণাত্মক ভাষণও সকলকে শোনার আর্জি জানান। এদিন জলন্ধরের সাংসদ চরণজিৎ সিং চান্নি লোকসভার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে স্বাধিকার ভঙ্গের নোটিশ জমা দেন। ওই নোটিশে তিনি লিখেছেন, ‘মঙ্গলবার স্পিকারের নির্দেশে সাংসদ অনুরাগ ঠাকুরের বক্তৃতার কিছু অংশ সভার কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী মোদি অনুরাগের অসম্পাদিত বক্তৃতার পুরো ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছেন স্বাধিকার ভঙ্গ করেছেন।’