নিজস্ব প্রতিনিধি: এ যেন বিনা মেঘে বজ্রপাত! বর্ধিত হারে পেনশন দেওয়ার প্রক্রিয়া অলিখিত নির্দেশের মাধ্যমে বন্ধ করে দিল কেন্দ্রীয় সরকার। শ্রমমন্ত্রকের অধীন এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশনের (ইপিএফও) তরফে এমনই বার্তা দেওয়া হয়েছে দেশের সবকটি আঞ্চলিক অফিসে। তবে কোনও লিখিত নির্দেশ দেওয়া হয়নি বলেই জানা গিয়েছে। আপাতত মৌখিকভাবেই বলা হয়েছে, বর্ধিত হারে পেনশন দেওয়ার প্রক্রিয়া আপাতত মুলতুবি রাখতে হবে। কিন্তু কেন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হল?
আরও পড়ুনঃ গল্প নয় সত্যি, এক ধাক্কায় ৬ হাজার টাকা সস্তা হল Realme GT 6T ফোন
সূত্রের খবর, বর্ধিত হারে পেনশনের হিসেব সংক্রান্ত বেশ কিছু গোলযোগ ইতিমধ্যেই উঠতে শুরু করেছে দফতরের অন্দরে। এমনকি তা দেওয়ার মতো যথেষ্ট টাকা কোষাগারে আছে কিনা সেই বিষয়েও সংশয় রয়েছে। এর আগে পেনশন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টকে অবমাননা করার মতো গুরুতর অভিযোগও উঠে এসেছে। তাই গোটা বিষয়টিতে স্বচ্ছতা না আসা অবধি এই প্রক্রিয়া বন্ধ রাখা হবে বলে জানা গিয়েছে।
মৌখিক নির্দেশে নিয়মের স্বচ্ছতার কথা উল্লেখ করা হলেও পেনশন দেওয়ার টাকা জোগাড় করাটাও যে এখন কেন্দ্রের কাছে বড় অর্থনৈতিক বোঝা তা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। সামনেই মহারাষ্ট্রের বিধানসভা নির্বাচন। এদিকে প্রচার অভিযানে অর্থ খরচ করতে পারদর্শী ভাজপা সরকার, কাজেই এই মুহূর্তে বর্ধিত হারের পেনশন প্রক্রিয়া নিয়ে মাথা ঘামাতে নারাজ কেন্দ্র।
আরও পড়ুনঃ অত্যাচারী স্বামী জামিন পাওয়ায় সটান ‘স্বেচ্ছামৃত্যুর’ অনুমতি চেয়ে রাষ্ট্রপতিকে চিঠি স্ত্রীর
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর দু’বছর কেটে গেলেও আবেদনকারীদের মধ্যে ১ শতাংশ প্রবীণকেও বর্ধিত হারে পেনশন দিয়ে উঠতে পারেনি নরেন্দ্র মোদি সরকার। কারণ এই মুহূর্তে নির্দিষ্ট ‘ফর্মুলা’ মেনে পেনশন দিতে হলে তহবিলে বড়সড় ফাঁক তৈরি হবে। মহারাষ্ট্রের ভোটের আগে দলের ইমেজের কথা মাথায় রেখে এহেন ভুল করবে না বিজেপি। তাই এর ফল ভোগ করতে হচ্ছে পেনশনের আওতায় থাকা সাধারণ মানুষকে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে পেনশন দেওয়া হলে তার অঙ্ক বাড়তে বাধ্য কিন্তু এক্ষেত্রে কোনও নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ হচ্ছে না। এই সমস্যার শেষ কোথায়! আপাতত কেন্দ্রের কাছেও বোধহয় এই প্রশ্নের উত্তর নেই।