নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: আসন্ন বাজেটে কী ফের একবার কর কাঠামো বদলে যাচ্ছে? সূত্রের খবর, চাকরিজীবীদের কথা মাথায় রেখে কর কাঠামোয় ফের একবার পরিবর্তন আনার চিন্তাভাবনা শুরু করেছে মোদি সরকার। আর তাতে উপকৃত হতে পারেন নামী সংস্থায় কর্মরত চাকরিজীবী থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। বার্ষিক ১৫ লক্ষ টাকা আয় পর্যন্ত বিশেষ কর ছাড়ের ঘোষণা হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে মুখে কুলুপ এঁটে রয়েছেন অর্থ মন্ত্রকের আধিকারিকরা।
২০২০-২১ আর্থিক বর্ষে দেশে নয়া আয়কর ব্যবস্থার প্রচলন করেছিল মোদি সরকার। যা অনেকের কাছেই নিউ ট্যাক্স রেজিম হিসাবে পরিচিত। ওই ব্যবস্থায় দেশের ৭০ শতাংশ জনতাই করদাতার তালিকায় চলে এসেছেন। যদিও নয়া কর কাঠামো নিয়ে অনেকেই ক্ষুব্ধ। তাঁদের মতে, পুরনো কর কাঠামো অনেক সরল এবং সহজ ছিল। বর্তমান আয়কর কাঠামোয় ৩ লক্ষ টাকা বার্ষিক আয় পর্যন্ত সরকারকে কোনও কর দিতে হয় না। যাঁদের বার্ষিক আয় ৩ থেকে ৬ লাখ টাকা তাঁদের ৫ শতাংশ কর ভরতে হয়। ৬ থেকে ৯ লাখ টাকা আয় পর্যন্ত ১০ শতাংশ, ৯ থেকে ১২ লাখ পর্যন্ত ১৫ শতাংশ, ১২ থেকে ১৫ লাখ পর্যন্ত ২০ শতাংশ এবং ১৫ লাখের উপর হলে ৩০ শতাংশ কর চালু রয়েছে। তবে করদাতাদের খানিকটা স্বস্তি দিতে ৭৫ হাজার টাকার স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন বা ছাড় চালু রয়েছে। ব্যক্তিগত বা আয়কর বাবদ সরকারের রাজকোষ উপচে পড়ছে। ২০২৪-২৫ অর্থ বর্ষের এপ্রিল থেকে নভেম্বর পর্যন্ত প্রথম আট মাসে কর আয় বেড়েছে ২৫ শতাংশ বা ৭ লক্ষ ৪১ হাজার কোটি টাকা।
সূত্রের খবর, শহুরে নাগরিকদের মাথার ওপর থেকে করের বোঝা লাঘব করাতে কর কাঠামোয় খানিকটা বদল আনার কথা ভাবা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে আসন্ন বাজেটে বার্ষিক চার লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয়ের ক্ষেত্রে কোনও কর দিতে হবে না বলে ঘোষণা করতে পারেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। সেক্ষেত্রে নতুন কর কাঠামোয় আয় ৪ থেকে ৭ লাখ টাকা হলে তাঁদের ৫ শতাংশ কর ভরতে হবে। যাঁদের আয় ৭ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত তাঁদের ১০ শতাংশ কর দিতে হবে। ১০ থেকে ১৩ লাখ পর্যন্ত ১৫ শতাংশ, ১৩ থেকে ১৬ লাখ পর্যন্ত ২০ শতাংশ এবং ১৬ লাখের উপর হলে ৩০ শতাংশ কর চালুর প্রস্তাব করা হতে পারক্ষে।