Loading live market data...
Loading active stocks...
Connecting...
Heatmap
×

মহারাষ্ট্রে ‘মহায়ুতি’, ঝাড়খণ্ডে ‘ইন্ডিয়া’, উপনির্বাচনে বিরোধীদের টেক্কা এনডিএ’র

Share:

নিজস্ব প্রতিনিধি: ‘অব কি বার, ওহি সরকার’। শনিবার মহারাষ্ট্র ও ঝাড়খণ্ডের বিধানসভা ভোট ‌এবং ১৪ রাজ্যের ৪৮ বিধানসভা আসনের উপনির্বাচনের ফলাফলের নির্যাস এটাই। অর্থা‍ৎ ভোটাররা প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার পথে না হেঁটে বর্তমান শাসক দল বা জোটের উপরেই ভরসা রেখেছেন। তাই তো মহারাষ্ট্রে যেমন ‘মহাজয়’ পেয়েছে মহায়ুতি, তেমনই ঝাড়খণ্ডে কুর্সি দখলে রাখল ‘ইন্ডিয়া’ জোট। পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তরপ্রদেশ, কর্নাটক থেকে বিহার সর্বত্রই উপনির্বাচনে জয়-জয়কার শাসকদলের। কর্পূরের মতো উবে গিয়েছে বিরোধীরা। অর্থা‍ৎ ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটানোর মতো বিপ্লব করেননি সাধারণ ভোটাররা।

শনিবার সকাল থেকেই গোটা দেশের চোখ ছিল মহারাষ্ট্র ও ঝাড়খণ্ডের বিধানসভা ভোটের ফলাফলের দিকে। সেই সঙ্গে ৪৮ আসনের উপনির্বাচনের ফলাফল জানতেও কৌতুহলী ছিলেন অনেকে। কিন্তু বেলা গড়াতেই স্পষ্ট হয়ে যায়, ক্ষমতার পালাবদল ঘটছে না কোথাও। মহারাষ্ট্রের কথাই প্রথমে আলোচনা করা যাক। দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি রাজ্যে মাস ছয়েক আগে জোর ধাক্কা খেয়েছিল বিজেপির নেতৃত্বাধীন মহায়ুতি। ফলে অনেকেই আশা করেছিলেন, বিধানসভা ভোটেও ক্ষমতার পালাবদল ঘটতে পারে। কিন্তু বৈদ্যুতিন ভোট যন্ত্র খোলার সঙ্গে সঙ্গে স্পষ্ট হয়ে যায়, মহায়ুতির কাছে হালে পানি পাচ্ছে না উদ্ধব ঠাকরেদের মহা বিকাশ আগাড়ি। বাস্তবেও তাই ঘটল। চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা গেল, মহায়ুতি জোট দুই তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জিতে ক্ষমতায় ফিরছে প্রবল শক্তিশালী হয়ে। মোট ২৩৪টি আসনে জিতেছে মহায়ুতি। তার মধ্যে বিজেপি একাই জিতেছে ১৩২ আসনে। মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডের শিবসেনা জয়ী হয়েছে ৫৭টি আসনে আর অজিত পওয়ারের এনসিপি জয়ী হয়েছে ৪১টি আসনে। উল্টোদিকে মহা বিকাশ আগাড়ির ঝুলিতে গিয়েছে মাত্র  ৪৮ আসন। তার মধ্যে উদ্ধব সেনা পেয়েছে ২০টি আসন। কংগ্রেসের ঝুলিতে গিয়েছে ১৬ এবং শরদ পওয়ারের নেতৃত্বাধীন এনসিপির দখলে ১০টি ‌আসন। সমাজবাদী পার্টি জিতেছে ২টি আসনে। অথচ বিধানসভা ভোটের আগে মহায়ুতির দখলে ছিল ১৯১টি আসন। আর মহা বিকাশ আগাড়ির দখলে ছিল ৭৪ আসন। অর্থা‍ৎ গত বারের চেয়ে ৪৩টি বেশি আসন জিতেছে মহায়ুতি। আর দখলে থাকা  ২৬ আসন খুঁইয়েছেন উদ্ধবরা। আরও লক্ষ্যণীয়, এ নিয়ে টানা তিনটি বিধানসভা নির্বাচনে ১০০-র বেশি আসনে জিতল পদ্ম শিবির।

মহারাষ্ট্রে যেমন ‘মহাজয়’ পেয়েছে মহায়ুতি জোট, তেমনই ঝাড়খণ্ডে পদ্ম ফুটতে দেননি ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার প্রধান হেমন্ত সোরেন। গত ১৩ ‌ও ২০ নভেম্বর দু’দফায় ঝাড়খণ্ড বিধানসভার ৮১টি আসনে ভোট নেওয়া হয়েছিল। এদিন সকালে ভোট গণনার শুরুতে (পোস্টাল ব্যালট) এগিয়ে গিয়েছিল এনডিএ জোট। কিন্তু তার পরেই নাটকীয় মোড়। সাধারণ মানুষের ভোট গণনা শুরু হতেই এনডিএকে টেক্কা দিয়ে এগিয়ে যেতে থাকে হেমন্ত সোরেনের নেতৃত্বাধীন ‘ইন্ডিয়া’ জোট। তার পর সময় যত এগিয়েছে ততই জয়ের ব্যবধান বাড়িয়েছে ইন্ডিয়া জোটের প্রার্থীরা। দুপুরেই স্পষ্ট হয়ে যায়, ঝাড়খণ্ডে ফুটছে না পদ্ম। রাশ থাকছে হেমন্ত সোরেনের হাতেই। শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা গিয়েছে ৮১টি আসনের মধ্যে ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা জয়ী হয়েছে ৩৪ আসনে। সহযোগী কংগ্রেসের দখলে গিয়েছে ১৬টি আসন। রাষ্ট্রীয় জনতা দল জিতেছে চারটি ‌এবং সিপিআইএমএল (লিবারেশন) জয়ী হয়েছে ২টি আসনে। উল্টোদিকে ধরাশায়ী হয়েছে বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট। গত বার যেখানে ২৫টি ‌আসন জিতেছিল বিজেপি, সেখানে এবার জিতেছে মাত্র ২১টি আসনে। অর্থা‍ৎ গতবারের চেয়ে চারটি আসন কম পেয়েছে। বিজেপির সঙ্গী নীতীশ কুমারের জেডিইউ, চিরাগ পাসোয়ানের এলজেপিআরভি ও সুদেশ মাহাতর ‌আজসু  জিতেছে মাত্র ১টি করে আসনে। অন্যান্যরা জিতেছে একটি আসনে।

দুই রাজ্যের বিধানসভা ভোটের পাশাপাশি দেশের ১৪ রাজ্যের ৪৮ বিধানসভা আসনে উপনির্বাচন হয়েছিল। ‌ওই উপনির্বাচনের ফলাফলে আসন জেতার নিরিখে বিরোধীদের টেক্কা দিয়েছে বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট। ৪৮ আসনের মধ্যে বিজেপির ঝুলিতে গিয়েছে ২১ আসন। আর এনডিএ’র সহযোগী দলগুলি পেয়েছে আটটি আসন। অর্থা‍ৎ এনডিএ জয়ী হয়েছে ২৯ আসনে। উল্টোদিকে বিরোধীদের ঝুলিতে গিয়েছে ১৯ আসন। তার মধ্যে কংগ্রেস জিতেছে সাতটি আসনে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস জিতেছে ৬টি আসনে। অরবিন্দ কেজররিওয়ালের আপ জিতেছে তিন আসনে। এছাড়া অখিলেশ যাদবের সমাজবাদী পার্টি ২টি ও সিপি‌আইএম জিতেছে একটি আসনে। পশ্চিমবঙ্গ, পঞ্জাব, কংগ্রেস, রাজস্থান, বিহার, অসম, উত্তরপ্রদেশ, সিকিম, মেঘালয়, উত্তরাখণ্ড, গুজরাত-সর্বত্রই দেখা গিয়েছে ভোটাররা শাসক দল বা শাসক জোটের উপরেই আস্থা রেখেছেন। বিরোধীদের উপরে ভরসা রাখেননি। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক ১৪ রাজ্যের উপনির্বাচনের ফলাফল-

অসম (৫)

রাজ্যের পাঁচ বিধানসভা  আসনে উপনির্বাচন হয়েছিল। তার মধ্যে  বঙ্গাইগাঁও আসনে জয়ী হয়েছেন অসম গণ পরিষদের দীপ্তিময়ী চৌধুরী। সিডলি আসনে জিতেছেন ইউনাইটেড পিপলস পার্টির নির্মল কুমার ব্রহ্ম। বেহালি থেকে জয়ী হয়েছেন বিজেপির দিগন্ত ঘাটোয়াল। ধোলাই ও ধামাগুড়ি আসন থেকে যথাক্রমে জয়ী হয়েছেন পদ্ম শিবিরের নীহাররঞ্জন দাস ও দিপলুরঞ্জন সরমাহ।

বিহার (৪)

চার বিধানসভা আসনে উপনির্বাচন হয়েছিল। সব কয়টিতেই জিতেছেন এনডিএ’র প্রার্থীরা। খালি হাতে ফিরতে হয়েছে রাষ্ট্রীয় জনতা দল ‌ও কংগ্রেস জোটকে। তরারি ও রামগড় থেকে জিতেছেন বিজেপির বিশাল প্রশান্ত ও অশোক সিংহ। ইমামগঞ্জ থেকে জিতেছেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা হিন্দুস্থান আওয়াম মোর্চার সুপ্রিমো জিতনরাম মাজির পুত্রবধূ দীপা কুমারী। বেলাগঞ্জ থেকে জিতেছেন সংযুক্ত জনতা দলের মনোরমা দেবী।

কর্নাটক (৩)

দাক্ষিণাত্যের কন্নড় ভূমে তিনটি বিধানসভা আসনে উপনির্বাচন হয়েছিল। তিনটি ‌আসনেই জিতেছেন কংগ্রেস প্রার্থীরা। সান্দুর থেকে ই অন্নপূর্ণা, চান্নাপাটনা থেকে সিপি যোগেশ্বরা এবং শিগগাঁও থেকে পাঠান ইয়াসির আমেদ খান জয়ী হয়েছেন।  ।

কেরল (২)

দক্ষিণের আর এক রাজ্য কেরলে বিধানসভার দুটি আসন এবং ওয়ানাড লোকসভা আসনের উপনির্বাচন হয়েছিল। ওয়ানাড থেকে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধি। আর বিধানসভার দুটি আসনে ভাগাভাগি করে জয়ী হয়েছে ইউডিএফ এবং এলডিএফের প্রার্থীরা। পাল্লাকাড থেকে জয়ী হয়েছেন কংগ্রেসের রাহুল মামকোটাথিল। আর চিলাক্কারা থেকে জিতেছেন সিপিআইএমের ইউআর প্রদীপ।

মধ্যপ্রদেশ (২)

ভারতের হৃদয় বলে পরিচিত মধ্যপ্রদেশে বলে দুটি বিধানসভা আসনে ভোট নেওয়া হয়েছিল। তার মধ্যে বিজয়পুরে জিতেছেন কংগ্রেসের মুকেশ মালহোত্রা। এই আসনে হেরে গিয়েছেন কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে গিয়ে মন্ত্রী হওয়া রামনিবাস রাওয়াত। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানের ছেড়ে যাওয়া বুধনি আসনে অবশ্য জিতেছেন বিজেপির রমাকান্ত ভার্গব।

পঞ্জাব (৪)

পঞ্চনদের রাজ্য হিসাবে পরিচিত পঞ্জাবে চারটি বিধানসভা আসনে উপনির্বাচন হয়েছিল। তার মধ্যে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টি জিতেছে তিন আসনে। বাকি ‌আসনটি জিতেছে কংগ্রেস। বিজেপি খাতা খুলতে পারেনি।

রাজস্থান (৭)

মরুরাজ্য রাজস্থানে বিধানসভা উপনির্বাচনেও গেরুয়া ঝড় লক্ষ্য করা গিয়েছে। ভোট হওয়া সাত আসনের মধ্যে ছয়টিতে জিতেছে বিজেপি। আর শচিন পাইলটের খাসতালুক হিসাবে পরিচিত দৌসায় জয় পেয়েছে কংগ্রেস। বিজেপির জেতা আসনগুলি হল ঝুনঝুনু, রামগড়, দেউলি-উনিয়াড়া, খিনশ্বর, সালুম্বের ও চোরাশি।

সিকিম (২)

উত্তর-পূর্বের অন্যতম রাজ্য সিকিমে ২টি আসনে ভোট নেওয়া হয়েছিল। দুটি আসনই দখল করেছে রাজ্যের শাসকদল সিকিম ক্রান্তিকারী মোর্চা।

উত্তরপ্রদেশ (৯)

উত্তরপ্রদেশের ৯টি বিধানসভা আসনে উপন ইর্বাচনে ভোট নেওয়া হয়েছিল। লোকসভা ভোটে জোর ধাক্কা খাওয়ার পরে প্রথম অ্যাসিড টেস্টের মুখোমুখি হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। আর সেই টেস্টে সসম্মানে উত্তীর্ণ হয়েছেন তিনি। ৯টি আসনের মধ্যে ছয়টি আসনে জিতেছেন বিজেপি প্রার্থীরা। একটি আসন গিয়েছে জয়ন্ত চৌধুরীর রাষ্ট্রীয় লোকদলের ঝুলিতে। দুটি আসনে জয়ী হয়েছেন সমাজবাদী পার্টির প্রার্থীরা।

পশ্চিমবঙ্গ (৬)

পশ্চিমবঙ্গে ছয় বিধানসভা আসনের উপনির্বাচনে সবুজ ঝড় বয়ে গিয়েছে।  কার্যত ছক্কা হাঁকিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস। নিজেদের দখলে থাকা নৈহাটি, হাড়োয়া, মেদিনীপুর, তালড্যাংরা ও সিতাই দখলে রাখার পাশাপাশি বিজেপির হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে মাদারিহাট আসন।

ছত্তিশগড় (১)

ছত্তিশগড়ের রায়পুর দক্ষিণ বিধানসভা আসনে উপনির্বাচন হয়েছিল। ওই আসনে হেসে খেলেই জিতেছেন বিজেপি প্রার্থী সুনীল কুমার সোনি।

গুজরাত (১)

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির খাসতালুক গুজরাতের ভাভ আসনে জয়ী হয়েছেন বিজেপির ঠাকোর স্বরূপজি সর্দারজি।

মেঘালয় (১)

মেঘের রাজ্য হিসাবে পরিচিত মেঘালয়ের গামবেগরে আসন থেকে জয়ী হয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা ন্যাশনাল পিপলস  পার্টির সুপ্রিমো কনরাড সাংমার স্ত্রী মেহতাব অ্যাজিটক সাংমা।

উত্তরাখণ্ড (১)  

দেবভূমি হিসাবে পরিচিত উত্তরাখণ্ডের কেদারনাথ আসনে জয়ী হয়েছেন বিজেপির আশা নৌটিয়াল।

 

দীপাবলিতে ঘরে টিকটিকির আগমন শুভ নাকি অশুভ! জানলে চমকে যাবেন

ত্বকের যত্নে ভিটামিন ই ক্যাপসুল কীভাবে ব্যবহার করবেন জানুন

রসনাতৃপ্তিতে নয়া পদে সাজিয়ে তুলুন থালা, জমে যাবে শেষপাত

পুজোর আগে সুখবর, সস্তা রান্নার গ্যাস, কত কমল দাম?

‘টেন্টেড’ তালিকাকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ ‘অযোগ্য’-রা

পাকিস্তানেই তৈরি হয় সন্ত্রাসবাদের ভিত্তি, চিনে নাম না করেই শাহবাজকে বিঁধলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি

0:00