নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ অপারেশন সিঁঁদুরকে পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসীদের দ্বারা নিরীহ মানুষ হত্যার প্রতিশোধ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি দৃঢ় কণ্ঠে জানিয়েছেন, ভারত সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে সম্পূর্ণরূপে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
পাকিস্তানে সন্ত্রাসীদের আস্তানায় ভারতের অপারেশন সিঁদুরের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অমিত শাহ। সমাজমাধ্যমে এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, “আমরা আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর জন্য গর্বিত। পহেলগাঁওয়ে আমাদের নিরীহ ভাইদের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রতি ভারতের প্রতিক্রিয়া হলো অপারেশন সিঁদুর।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ভারত এবং তার জনগণের উপর যে কোনও আক্রমণের উপযুক্ত জবাব দিতে মোদি সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভারত সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে সম্পূর্ণরূপে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
অমিত শাহ ছাড়াও, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডা অপারেশন সিঁদুর সম্পর্কে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, “পহেলগাঁও সম্পর্কে ভারতের বার্তা – যদি আপনি আমাদের বিরক্ত করেন, আমরা আপনাকে যেতে দেব না। প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেছেন যে যারা ভারতের আত্মার উপর আক্রমণ করবে তাদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।ভারত সন্ত্রাসবাদকে স্বমূলে উৎপাটন করতে সক্ষম এবং দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আমরা সন্ত্রাসবাদের অভিশাপ নির্মূল করব।”
মঙ্গলবার গভীর রাতে, ভারতীয় সেনাবাহিনী বিমান হামলার মাধ্যমে পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীর (POK) তে প্রতিষ্ঠিত ৯টি সন্ত্রাসী ঘাঁটি ধ্বংস করে দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পরামর্শে নিরাপত্তা বাহিনী এই অভিযানের নামকরণ করে অপারেশন সিঁদুর।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রকও অভিযান সম্পর্কে একটি বিবৃতি জারি করেছে। এই বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে অপারেশন সিঁদুরের অধীনে ভারত পাকিস্তান এবং পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের নয়টি সন্ত্রাসী শিবির লক্ষ্যবস্তু করে ধ্বংস করেছে।
সরকার এক বিবৃতিতে বলেছে যে এই অভিযানটি সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী এবং নৌবাহিনীর একটি মিলিত প্রচেষ্টা ছিল। যেখানে ভারত-পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরের সন্ত্রাসী অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে যেখান থেকে ভারতের বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনা এবং নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
অভিযানে ধ্বংস হওয়া অবকাঠামো তিনটি প্রধান সন্ত্রাসী সংগঠন – লস্কর-ই-তৈবা (এলইটি), হিজবুল মুজাহিদ্দিন এবং জৈশ-ই-মহম্মদ (জেইএম) – এর সঙ্গে যুক্ত ছিল। আন্তর্জাতিক সীমান্ত থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ভাওয়ালপুরকে ব্যাপকভাবে জৈশ-ই-মহম্মদের কার্যক্রমের কেন্দ্রস্থল বলে মনে করা হয়। ২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলার পর থেকে এই স্থানগুলি ভারতের র্যাডারে ছিল। পাকিস্তান এবং পিওজেকেতে ভারত কর্তৃক আক্রান্ত অন্যান্য আটটি স্থান হল মুরিদকে, গুলপুর, সাওয়াই, বিলাল ক্যাম্প, কোটলি ক্যাম্প, বার্নালা ক্যাম্প, সরজাল ক্যাম্প এবং মেহমুনা ক্যাম্প।
সূত্রমতে, নয়টি লক্ষ্যবস্তুতে সমস্ত আক্রমণ সফল হয়েছে এবং ‘অপারেশন সিঁদুর’-যাদের দ্বারা সম্ভব হয়েছে সেই সকল বিমান বাহিনীর পাইলটরা নিরাপদে ফিরে এসেছেন। প্রধানমন্ত্রী নিজে পুরো অভিযানটি পর্যবেক্ষণ করেছিলেন।
পাকিস্তান দাবি করেছে যে ভারত ছয়টি স্থানে আক্রমণ করেছে। এর ফলে ২৬ জন নিহত হয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই আক্রমণের পাল্টা হিসাবে বলেছেন পাকিস্তান এর জবাব দেবে।