নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়কে সংখ্যালঘু প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি পাবে কিনা, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত জানাল না শীর্ষ আদালত। তবে পাঁচ দশকের বেশি সময় আগে ১৯৬৭ সালে সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া রায় খারিজ করে দিয়েছে সাত বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চ। প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়ের নেতৃত্বাধীন সাত বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চ অবশ্য রায় দিতে গিয়ে দ্বিধাবিভক্ত হয়েছে। চার বিচারপতি আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়কে সংখ্যালঘু প্রতিষ্ঠান হিসাবে মর্যাদার পক্ষে রায় দিয়েছেন। বাকি তিন বিচারপতি ভিন্ন মত পোষণ করেছেন। একই সঙ্গে শীর্ষ আদালতের তরফে জানানো হয়েছে, কোনও প্রতিষ্ঠান সংখ্যালঘু তকমা পাবে কিনা তার মানদণ্ড স্থির করবে তিন বিচারপতির বেঞ্চ।
১৯৬৭ সালে সুপ্রিম কোর্টের রায়েই সংখ্যালঘু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা হারিয়েছিল কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় হিসাবে পরিচিত আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়। ১৪ বছর বাদে ১৯৮১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্রী ইন্দিরা গান্ধির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় আইন সংশোধন করে সংখ্যালঘু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ফিরিয়ে দিয়েছিল। ২০১৬ সালে এলাহাবাদ হাইকোর্ট ১৯৮১ সালের সংশোধনীকে ‘অসাংবিধানিক’ বলে রায় দেয়। হাইকোর্টের বক্তব্য ছিল, কেন্দ্রীয় সরকারের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংখ্যালঘু সংস্থার মর্যাদা পেতে পারে না। সেই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন পড়ুয়া এবং শিক্ষকরা।
শীর্ষ আদালতে মামলার শুনানিতে মোদি সরকারের তরফে জানানো হয়, তারা ১৯৮১ সালে কংগ্রেস সরকারের পাশ করানো সংশোধনী বাতিল করে আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যালঘু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসাবে বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহার করে নিতে চায়। কেন্দ্রের আইনজীবী তথা সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা তাঁর সওয়ালে বলেন, ‘১৮৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রাক-স্বাধীনতা যুগেও জাতীয় স্তরের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল। তাই তাকে কেবলমাত্র সংখ্যালঘুদের জন্য বলা যেতে পারে না।’