নিজস্ব প্রতিনিধি : সমগ্র জগত সংসারের আদিগুরু হল স্বয়ং মহাদেব। যার এক ইশারায় বিশ্বব্রহ্মান্ড ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। শিব হল সত্য বা বাস্তব আর তাঁর শক্তি হল স্বয়ং কালী। দেবী কালি হলেন দশমহাবিদ্যার প্রথম দেবী। শাক্তমতে কালী বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টির আদি কারণ। বলা হয় দেবী কালী হলেন স্বয়ং মহাদেবেরই ক্রোধের বহি:প্রকাশ। শিবপুরাণ অনুসারে, মা কালী এবং বীর ভদ্র শিবের ক্রোধ থেকে জন্মগ্রহণ করেন। তেমনই আবার শিবের সহধর্মিণী পার্বতীর ধ্বংসাত্মক রূপ হল দেবী কালী। ‘শিব-শক্তি’ শব্দ দুটো শিব ও কালীকেই বোঝায়। আপনি কী জানেন কেন স্বয়ং মহাদেব কালীর পদতলে থাকেন ? তবে জেনে নিন এর পেছনে কোন রহস্য লুকিয়ে আছে।
আসলে বাংলায় যে প্রচলিত কালীমূর্তি দেখা যায়, তাতে দেখা যায় দেবীর পদতলে মহাদেব সটান হয়ে শুয়ে আছে। আর স্বামী শিবের বুকের উপর পা রেখে দাঁড়িয়ে আছে দেবী কালী। তবে স্বামীর বুকে অজান্তে পা রেখে লজ্জায় জিভ বের করে আছেন কালী। এই নিয়ে প্রচলিত ধারণা আছে যে, দেবীকে শান্ত করতে এমনটা করেছিলেন মহাকাল।
আসলে আদ্যাশক্তি হলেন দেবী কালী। ক্রোধ থেকেই জন্ম দেবীর। তাঁর হাতে পাপের বিনাশ হলেও তাঁকে শান্ত করতে কম ঝক্কি পোহাতে হয় নি মহাদেবকে। না হলে সমগ্র বিশ্ব ব্রহ্মান্ড ধ্বংস হয়ে যেত। আদ্যাশক্তিকে ধারণ করা সহজ নয়, কেননা তার তেজে ঝলসে যাবে সমস্ত কিছু। দেবী কালীর ক্রোধ শান্ত করে তাকে পার্বতী রূপে ফিরিয়ে আনতে একবার মহাদেব সোজা গিয়ে দেবী কালীর সামনে শুয়ে পড়েন।
আরও পড়ুন : কেন স্বামী মহাদেবকে স্তন পান করিয়েছিলেন শ্রীকালী ?
কথিত আছে, ভয়ংকর ক্রোধে উন্মত্ত দেবী কিছুতেই শান্ত হচ্ছেন না। তাঁর আরও রক্ত চাই। এদিকে আর কোন দানব-অসুরও জীবিত নেই। একে একে ভয়ংকর অসুরদের সংহার করেও শান্ত হন নি দেবী। এমন অবস্থা হয় যে হাতের সামনে যাকে পাবেন তাকেই সংহার করবেন দেবী কালী। উপায় বেগতিক দেখে তখন স্বয়ং মহেশ্বর দেবীর পথ রোধ করে দাঁড়ান। কিন্তু আদ্যাশক্তির সেই রূপ এতটাই ভয়ংকর যে সকল দেবতাগণ পিছিয়ে আসতে বাধ্য হন। কিন্তু শিব সহধর্মিণীকে শান্ত করতে রক্তের তেষ্টায় ক্ষিপ্ত দেবীর সামনে শুয়ে পড়লেন। খেয়াল না করে তাঁর উপর পা রাখলেন দেবী কালী। ব্যস, একটা মাত্র পা রেখেই থেমে গেলেন। লজ্জায় জিভও কেটে ফেললেন। সেই মূর্তিই প্রচলিত কালী।
অর্থাৎ, সর্বপ্রাণীকে ‘কলন’ অর্থাৎ গ্রাস করেন বলেই শিব ‘মহাকাল’। আর সেই মহাকালকেই গ্রাস করেন আদ্যাশক্তি ‘কালিকা’। কালকে কলন করেই তিনি কালী। তিনি অশুভ শক্তি নাশ করেছেন। গলায় তার প্রতীক হিসেবে পরেছেন দানবমুণ্ডমালা। বলা হয় শিব ছাড়া যেমন শক্তি অসম্পূর্ণ,তেমনই শক্তি ছাড়া মহাকালও অসম্পূর্ণ। শিবকে বলা হয় ধ্বংসের দেবতা। কিন্তু শিবকে ছাড়া তাঁর শক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। আবার শিব বিনা শক্তি অর্থাৎ কালী হল অস্তিত্বহীন। এককথায় আদ্যাশক্তির তেজকে একমাত্র শান্ত করতে পারে ভোলানাথ। এই ধারন ক্ষমতা মহাদেবের আছে বলেই তাঁকে প্রলয়ের দেবতা বলা হয়।
আরও পড়ুন : জানেন কী মা কালীর বাহন শিয়াল কেন ? শিয়ালের ছদ্মবেশে প্রাণিটি আসলে কে ?