নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: শেখ হাসিনা জমানার অবসানের পরেই বাংলাদেশ জুড়ে ভারত বিদ্বেষ চরমে পৌঁছেছে। চলতি বন্যার পিছনে দিল্লির হাত রয়েছে এমন অভিযোগ তুলে ভারতের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডাকে তুঙ্গে নিয়ে গিয়েছে পাকিস্তানি চর এবং জামায়েত ইসলামী-বিএনপি সহ একাধিক রাজনৈতিক দল। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে কোনও মুহুর্তে ঢাকা-সহ দেশের একাধিক শহরে থাকা ভারতীয় দূতাবাসে হামলা চালাতে পারে জঙ্গিরা। শুধু তাই নয়, আক্রান্ত হতে পারেন ভারতীয় দূতাবাসের আধিকারিক ও কর্মীরাও। ফলে একরাশ উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা নিয়েই দিন কাটাচ্ছেন ভারতীয় দূতাবাসের আধিকারিক-কর্মীরা। ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত প্রণয় ভার্মা ইতিমধ্যেই অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে দেখা করে দূতাবাস ও দূতাবাস কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অনুরোধ জানিয়েছেন।
১৯৭৫ সালের ১৫ অগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে খুনের আগেই হামলা চলেছিল ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসে। এবারেও ৫ অগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পরে হামলার আশঙ্কায় সেনানিবাসে আশ্রয় নিয়েছিলেন ভারতীয় দূতাবাসের আধিকারিক ও কর্মীদের একাংশ। যদিও সেনানিবাসেও নিরাপদ বোধ করেননি তাঁরা। ফলে তড়িঘড়ি ওই আধিকারিক ও কর্মীদের বিশেষ বিমানে দিল্লি ফিরিয়ে নিয়ে গিয়েছিল ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। হাতে গোনা আধিকারিক ও কর্মী দিয়েই বর্তমানে দূতাবাসের কাজকর্ম পরিচালনা করা হচ্ছে।
গত কয়েকদিন ধরেই প্রকাশ্যেই ভারত বিদ্বেষ ছড়িয়ে চলছে কোটা আন্দোলনকারী, জামায়াত ইসলামী ও বিএনপি-সহ একাধিক মৌলবাদী সংগঠন। দেশে চলা সাম্প্রতিক বন্যার জন্য সমাজমাধ্যমে লাগাতার ভারতের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানো চলছে। বেশ কয়েকটি জঙ্গি সংগঠনের তরফে ভারতীয় দূতাবাস ঘেরাওয়ের ডাক-ও দেওয়া হয়েছে। দেশে বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা বলে কিছু অবশিষ্ট নেই। তাই জঙ্গি সংগঠনের হুমকি হালকাভাবে নিচ্ছেন না ভারতের রাষ্ট্রদূত প্রণয় ভার্মা। গতকাল বৃহস্পতিবারই (২২ অগস্ট) অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে দেখা করে দূতাবাস এবং আধিকারিক-কর্মীদের উপরে হামলার আশঙ্কা জানিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা চেয়েছেন। পাশাপাশি দিল্লির বিদেশ মন্ত্রকের কাছেও বিশেষ বার্তা পাঠিয়েছেন।