নিজস্ব প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম: আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে প্রধান আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দিয়েছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার (১ জুলাই) চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (কোতোয়ালী) মাহফুজুর রহমান মহানগর দায়রা বিচারকের আদালতে চার্জশিট জমা দিয়েছেন। ওই চার্জশিটে চিন্ময় প্রভু ছাড়াও আরও ৩৭ জনের নাম আসামি হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত বছরের ৫ অগস্ট শেখ হাসিনা জমানার পতনের পরে ৮ অগস্ট কুর্সি দখল করে পাকিস্তানি রাজাকার মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূস। তার নির্দেশে দেশ জুড়ে শুরু হয় হিন্দু খতম অভিযান। ওই খতম অভিযানে সামিল হয় বিএনপি-জামায়াত ইসলামী-ইসলামী শাসনতন্ত্র সহ হিন্দু বিদ্বেষী দলের নেতা-কর্মীরা। দেশ জুড়ে হিন্দু নিধন যজ্ঞের বিরুদ্ধে সরব হন চট্টগ্রামের পুণ্ডরীক ধামের প্রধান তথা প্রাক্তন ইসকন সন্ন্যাসী চিন্ময়কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী। খুলনা, সিলেট, চট্টগ্রাম সহ দেশের একাধিক বিভাগীয় শহরে হিন্দুদের নিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করেন তিনি। ওই বিক্ষোভ সমাবেশে হিন্দুদের ভিড় দেখে ঘাবড়ে যায় রাজাকার ইউনূসের সরকার। মুসলিম দেশের বাসিন্দা হয়ে মুসলিম শাসকদের বিরুদ্ধে কণ্ঠ তোলায় চিন্ময় প্রভুকে সবক শেখাতে আসরে নামে তদারকি সরকার এবং বিএনপি। গত বছরের অক্টোবরে জাতীয় পতাকার অবমাননার অভিযোগ তুলে চিন্ময় প্রভুর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা হয়। ২৫ নভেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে তাঁকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার আধিকারিকরা।
পরের দিন ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম আদালতে পেশ করা হয় চিন্ময় প্রভুকে। দেশের প্রধান বিচারপতি তথা রাজাকার পরিবারের সন্তান সৈয়দ রেফাত আহমেদের নির্দেশে ইসকন সন্ন্যাসীর জামিন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটান ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল আলম। এজলাস থেকে চিন্ময় প্রবুকে প্রিজন ভ্যানে তোলার সময়ে বিক্ষোভ দেখান সনাতনী সম্প্রদায়ের সদস্যরা। পাল্টা তাদের উপরে চড়াও হয় আইনজীবী সাইফুল আলম আলিফের নেতৃত্বে জামায়াত ইসলামীর সশস্ত্র ক্যাডাররা দুপক্ষের মধ্যে শুরু হয় সংঘর্ষ। ওই সংঘর্ষের সময়ে প্রাণ হারান সাইফুল।
ওই মামলায় গত মে মাসে গ্রেফতার দেখানো হয় চিন্ময় প্রভুকে। মামলার তদন্তকারী আধিকারিক মাহফুজুর রহমান জানিয়েছেন, ‘চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনারের নির্দেশেই চিন্ময় প্রভুকে প্রধান আসামী করে এদিন চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে। সারাদেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির লক্ষ্যে সেদিন আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে হত্যা করা হয়। চার্জশিটে যে ৩৮ জনকে আসামি করা হয়েছে, তাদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ২০ জনকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। বাকি ১৮ জন পলাতক।’