নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় রংপুর অঞ্চলে পাক সেনাদের দোসর হয়ে নারকীয় নির্যাতন চালিয়েছেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনকারীদের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়েব নৃশংসভাবে খুন করতেন।হিন্দুদের বাড়ি ঢুকে মেয়েদের জোর করে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করতেন। তার পরে তাদের টুকরো-টুকরো করে ফেলে দিতেন খালের জলে। মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাসে ১,২৫৬ জনকে খুন, ১৭ জনকে অপহরণ এবং একাধিক ধর্ষণের অপরাধে ফাঁসির সাজাপ্রাপ্ত রাজাকার বাহিনীর শীর্ষ নেতা এটিএম আজহারুল ইসলামকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূস সরকার। ইতিমধ্যেই প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আমেদকে ডেকে আজহারুলকে বেকসুর খালাস ঘোষণার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা মোল্লা ইউনূস। আর সেই নির্দেশ পাওয়ার পরেই আগামী মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি)কুখ্যাত রাজাকারের ফাঁসির সাজার বিরুদ্ধে দায়ের রিভিউ আর্জির শুনানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ওই শুনানির আবার দায়িত্ব পেয়েছেন জামায়াত ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিস সূরার সদস্য তথা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি মোহাম্মদ আশফাকুল ইসলাম।
গত ৫ অগস্ট সেনা বিদ্রোহের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে দিল্লিতে আশ্রয় নেওয়ার পরেই বাংলাদেশে ফের নখদাঁত বের করে ঝাঁপিয়েছে জামায়াত ইসলামী, হরকাতুল জিহাদি, হিযবুত তাহরীর, আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের মতো মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী সংগঠনের নেতা-সদস্যরা। বিচারব্যবস্থা থেকে পুলিশ ও প্রশাসনের ৯৫ শতাংশ পদেই বসানো হয়েছে বাংলাদেশের রাজাকার পরিবারের সদস্যদের। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আমেদ থেকে শুরু করে স্বরাষ্ট্রসচিব নাসিমুল গণি-পাকিস্তানপ্রেমী হিসাবেই পরিচিত। ‘রাজাকার’ মোল্লা ইউনূসের হাত ধরেই স্বাধীন বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন ও পুনর্বাসন ঘটছে পাকিস্তানপন্থী ও মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীদের। অবৈধভাবে ক্ষমতায় বসেই বিভিন্ন জেল থেকে হিযবুত তাহরীর সহ বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের সদস্যদের মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ইউনূস। সেই সঙ্গে নিষিদ্ধ ঘোষিত সব জঙ্গি সংগঠনের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এবার মুক্তিযুদ্ধের সময় কুখ্যাত রাজাকার বাহিনীর অন্যতম নেতা এটিএম আজহারুল ইসলামকেও মুক্তি দেওয়া হচ্ছে।
মুক্তিযুদ্ধের সময় রংপুরে বাঙালিদের নিধনে পাকিস্তানি সেনাদের প্রধান সহায়তাকারী আজহারুলকে ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ওই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ২০১৫ সালের ২৮ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেন কুখ্যাত রাজাকারের আইনজীবীরা। দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০১৯ সালের ২৩ অক্টোবর তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগ ফাঁসির সাজা বহাল রাখে। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ফের রিভিউ পিটিশন দাখিল করা হয়। আগামী মঙ্গলবার কুখ্যাত রাজাকার নেতার রিভিউ শুনানিতে কী প্রহসন হয়, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন আইনজীবীরা।