নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধুর ৩২ নম্বর ধানমন্ডির বাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়ে অনুশোচনা নেই ধ্বংসযজ্ঞের প্রধান মোল্লা তথা জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহরীর শীর্ষ নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ’র। উল্টে শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) গলার শিরা ফুলিয়ে তিনি বলেছেন, ‘গত ৫ অগস্টই পাকিস্তানকে দু’টুকরো করার নায়ক বঙ্গবন্ধুর ৩২ নম্বরের বাড়ি মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া উচিত ছিল। ওই দিন না করতে পারার প্রায়শ্চিত্ত বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) করা হয়েছে। শেখ মুজিবের বাড়ি ধুলোয় মিশিয়ে পাকিস্তান ভাগের কলঙ্কমোচন করেছেন বাংলাদেশিরা।’ দেশজুড়ে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বাড়িঘর ধ্বংসের কাজ চলবে বলেও জানিয়েছেন হিযবুত তাহরীর শীর্ষ নেতা।
গত বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) শেখ হাসিনার পতনের ৬ মাস পূর্তি উপলক্ষে আগাম ঘোষণা দিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত ও মুক্তিযুদ্ধের সুতিকাগার হিসাবে পরিচিত ৩২ নম্বর ধানমন্ডির বাড়িতে চড়াও হয় জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহরীর, আনসারুল্লাহ বাংলা টিম ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জঙ্গিরা। প্রথমে বাড়িতে ভাঙচুর চালানোর পর আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরে বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় বাড়িটি। শুধু বঙ্গবন্ধুর বাড়ি নয়, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাসভবন সুধা সদনেও অগ্নিসংযোগ করা হয়। তার পরে গতকাল বৃহস্পতিবার এবং আজ শুক্রবার সারা দেশেই আওয়ামী লীগ নেতা-মন্ত্রীদের বাড়ি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। আর ওই ধ্বংসযজ্ঞে পূর্ণ মদত জোগায় ঢাকা মহানগর ও বাংলাদেশ পুলিশ, সেনাবাহিনী এবং স্থানীয় পুরসভা ও সিটি করপোরেশন। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত সারা দেশে ৪৪৮ জন আওয়ামী লীগ নেতার বাড়ি ও ১৬৮টি কার্যালয় মাটিতে মিশে দেওয়া হয়েছে।
এদিন ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়ি মাটিতে মিশিয়ে দেওয়ার হোতাদের পাশে দাঁড়িয়ে বিবৃতি দিয়েছিলেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূস। তার পরেই ফেসবুক লাইভে এসে বঙ্গবন্ধুর বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার কৃতিত্ব দাবি করে হিযবুত তাহরীর জঙ্গি হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ’৩২ নম্বর ধানমন্ডির বাড়ি মাটিতে মিশিয়ে দিতে পারার জন্য গর্বিত। পাকিস্তানকে দু’টুকরো করেছিল শেখ মুজিব। তার বদলা নিলাম। ৫ অগস্টই ৩২ নম্বরের বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া উচিত ছিল।’ এখানেই থামেননি তিনি। আস্ফালন ছোড়েন, ‘এখনকার বাংলাদেশটা আমাদের। আমরাই বর্তমান বাংলাদেশের মালিক।’
এর পরে সচিব-আমলাদের প্রতি ক্ষোভ ঝেড়ে হিযবুত তাহরীর শীর্ষ নেতা বলেন, ‘জনগণের জন্য কাজ করুন, জনগণের শক্তি অনুধাবন করুন। আমি খুব করে চাইব, ধানমন্ডি ৩২ এর পরিণতি যেন সচিবালয়ের না হয়। আমি এটা খুব করে চাইবো, মন থেকে চাইব কোনও এক সময়, হয়তো এই বছর না হোক, ১০ বছর পর হোক, ১৫ বছর পরে, ২০ বছর পরে সচিবালয়ের পরিণতি যেন গণভবনের মতো না হয়। সুতরাং শিক্ষা গ্রহণ করুন, ধানমন্ডি ৩২ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করুন, গণভবন থেকে শিক্ষা গ্রহণ করুন।’