নিজস্ব প্রতিনিধি: প্রয়াত ক্রিকেটারদের শ্রদ্ধা জানাতে বিশেষ উদ্যোগ নিলো ভারতীয় ক্রিকেট সংস্থা। এর সঙ্গে যুক্ত ক্রিকেটাররা প্রয়াত হলেই তাদের পরিবারকে এক লক্ষ টাকা করে এককালীন অর্থ সাহায্য করবে বোর্ড। বেঙ্গালুরুতে ক্রিকেটারদের সংস্থার একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানেই এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে তাদের আলোচনা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত এই সিদ্ধান্তে সিলমোহর দেয়নি বিসিসিআই। তবে সিলমোহর না দিলেও যে এই সুবিধা দেওয়া হবে সেই বিষয়ে ক্রিকেটারদের পরিবারকে নিশ্চিত করেছে ভারতীয় ক্রিকেট সংস্থা।
প্রথম পর্যায়ে ৫০ জন প্রয়াত ক্রিকেটারের পরিবার এই সুবিধা পাবেন। তবে হ্যাঁ, এই সুবিধা পেতে গেলে অবশ্যই ভারতীয় ক্রিকেট সংস্থার সদস্য হতে হবে। নাহলে এই সুবিধা পাওয়া যাবে না। ইতিমধ্যেই বহু প্রয়াত ক্রিকেটারের পরিবারকে আর্থিক সুবিধা দিয়ে দেওয়া হয়েছে। যারা এই সুবিধা ইতিমধ্যেই পেয়েছেন তারা আর এককালীন সুবিধা পাবেন না।
ক্রিকেটারদের সংস্থা এক বিবৃতি মারফত বলেছে, “ভারতীয় ক্রিকেটে অবদান রাখার জন্য ক্রিকেটারদের পরিবারের পাশে আমরা থাকতে চেয়েছি। যে কোনও প্রয়োজনে তাঁদের সাহায্য করা হবে। আমরা আমাদের কর্তব্য পালন করব।” তবে হ্যাঁ, যদি ভবিষ্যতে ভারতীয় বোর্ডের পক্ষ থেকে ক্রিকেটারদের স্ত্রীদের জন্য পেনশনের পরিকল্পনা করা হয় তখন আর এই সুবিধা মিলবে না। যতদিন পেনশন নেই ততদিন এই সুবিধা পাওয়া যাবে।
২০১৯ সালে তৈরি হওয়া ভারতীয় ক্রিকেট সংস্থাকে মান্যতা দিয়েছে বিসিসিআই। বর্তমানে এই সংস্থায় ১৭৫০ জন সদস্য রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৭০ জন ক্রিকেটার রয়েছেন যাদের বয়স ৬০ বছরের বেশি। কিন্তু বোর্ডের কাছ থেকে পেনশন বা অন্য কোনও সুবিধাই তাঁরা পান না। সেই জন্যই এই এককালীন ১ লক্ষ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া ভারতীয় ক্রিকেট সংস্থা সদস্যদের জন্য স্বাস্থ্য বীমার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেই বীমার আওতায় আড়াই লক্ষ টাকা পর্যন্ত স্বাস্থ্যক্ষেত্রে বীমা করে দেওয়া হবে। এছাড়া ক্রিকেটাররা প্রতি বছর ৪৩ ধরনের স্বাস্থ্য পরীক্ষাও করাতে পারবেন। ক্রিকেটারদের পরিবারদেরও স্বাস্থ্য পরীক্ষার আওতাভুক্ত করা হয়েছে।
যদি কোনও ক্রিকেটারের শারীরিক অবস্থা আকস্মিকভাবে খারাপ হয় তাহলে ১ লক্ষ টাকা সাহায্য করা হবে। আগেও এই সুবিধা দেওয়া হয়ে ভারতীয় ক্রিকেট সংস্থার পক্ষ থেকে, এখনও দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এই সুবিধা অনেকেই পাবেন। সংস্কার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে এই কর্মসূচি গ্রহণের লক্ষ্য একটাই, যাতে ক্রিকেটারদের অবসর গ্রহণের পর কোনরকম সমস্যার সম্মুখীন হতে না হয়।