নিজস্ব প্রতিনিধি: প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। বাংলার পাশাপাশি বহুদিন ধরে হিন্দি ইন্ডাস্ট্রিতেও রাজত্ব করছেন টলিউড ‘ইন্ডাস্ট্রি’ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। ইতিমধ্যেই একাধিক হিন্দি ওয়েবসিরিজের কাজ সেরে ফেলেছেন তিনি। তাঁকে পরবর্তীতে দেখা যাবে ‘মালিক’-চলচ্চিত্রে। যেখানে মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করছেন রাজকুমার রাও। যাই হোক, বুম্বা দা-কে হিন্দি সিনেমায় দেখার জন্যে গভীর আগ্রহে বসে রয়েছেন তাঁর বাঙালি ভক্তরাও। কিন্তু এ আবহেই অভিনেতার একটি ভাইরাল ভিডিও বিতর্কের ঝড় তুলেছে। সম্প্রতি মুম্বইয়ে ‘মালিক’ ছবির সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত হয়েছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, রাজকুমার রাও-সহ ছবির একাধিক তারকা এবং নির্মাতারা। আর সেখানেই অভিনেতাকে ছবির ব্যাপারে বাংলায় একটি প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেন একজন বাঙালি সাংবাদিক। আর তাতেই মেজাজ হারান টলিউড সুপারস্টার।
সঙ্গে সঙ্গে তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেন যে, ‘এখানে বাংলা কথার কী প্রয়োজন?’ এই ভিডিওটি ভাইরাল হতেই তীব্র কটাক্ষের সম্মুখীন হয়েছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। এমনকী অভিনেতাকে করা বাংলায় প্রশ্নগুলি বুঝতে পারেন তাঁর সহ-অভিনেতা রাজকুমার রাও-ও। সোজাসুজি হিন্দিতেই সেটিকে ভাষান্তর করে বলে দেন। আর তাতে বাঙালিদের কাছে তিনি প্রশংসিত হন। এমনকী অনেকে এটাই বলছেন যে, ‘বাঙালি হয়েও বাংলা বলতে লজ্জা, শিখুন আপনার সহ অবাঙালি অভিনেতা রাজকুমার রাওয়ের থেকে, তিনি একেবারে সরাসরি আপনাকে চর মেরে দিলেন।’ বাংলায় যুগ যুগ ধরে রাজ করছেন বুম্বা দা, আর বাংলা চলচ্চিত্রে অভিনয় করেই তাঁর এত নামডাক, আর মুম্বইতে গিয়ে তিনি বাংলাই ভুলে গেলেন? এতেই অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অভিনেতার বাঙালি ভক্তরা। আর তা নিয়ে ক্ষমাপ্রার্থী বুম্বা দা।

বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) ফেসবুকে একটি পোস্ট শেয়ার করে তিনি লিখেছেন, ‘কিছুদিন হলো আমার একটা কথা, বলা ভালো একটা সেনটেন্স, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেটা নিয়েই কিছু বলতে চাই। আমি ৪২ বছর মূলত বাংলায় কাজ করছি৷ গত কয়েক বছর জাতীয় স্তরে কয়েকটা কাজ করার সূযোগ এসেছে, সেরকমই একটা হিন্দি সিনেমার ট্রেলার মুক্তি উপলক্ষ্যে, ১লা জুলাই বম্বের জুহু পিভি আর-এ সাংবাদিক সম্মেলন হচ্ছিল। ডায়ার্সে যারা ছিলেন ছবির পরিচালক, শিল্পী, অন্যান্যরা, সবাই প্রথম থেকেই মূলত ইংরেজিতেই কথা বলছিলেন। বাংলার একজন সাংবাদিক আমায় বাংলায় প্রশ্ন করেন। তিনি আমার দীর্ঘদিনের পরিচিত, অত্যন্ত স্নেহের পাত্রী। কিন্তু সেই মুহূর্তে আমার মনে হয়েছিল বাংলায় উত্তর দিলে হয়তো অনেকে সঠিক মানে বুঝতে পারবেন না। যেহেতু ওখানে বাংলা ভাষা বোঝেননা এমন মানুষের সংখ্যাই অনেকটা বেশি। তাই খানিকটা বাধ্য হয়েই, আমি ওনাকে বলি যে বাংলা ভাষায় কেন প্রশ্ন করছেন? যেহেতু সামাজিক মাধ্যমে শুধুমাত্র ওই একটা সেনটেন্স তুলে দেওয়া হয়েছে, হয়তো অনেকে ওই কথার আক্ষরিক অর্থের সূত্রে আঘাত পেয়েছেন। কষ্ট আমিও পেয়েছি, এখনও পাচ্ছি৷ কারণ ওই কথার এরকম প্রতিক্রিয়া হতে পারে ভাবতেই পারিনি৷ নিজের মাতৃভাষাকে অসম্মান করার কথা আমি দুঃস্বপ্নেও ভাবতে পারিনা। বাংলা আমার প্রাণের ভাষা, ভালোবাসার ভাষা৷ তবে চিরকাল আমার কাছে বাংলার মানুষের বিচার শিরোধার্য। আমি এই টুকু বুঝেছি আমার বলা কথায়ে আপনাদের যথেষ্ট আঘাত লেগেছে, তাই আমি দুঃখিত৷’