নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার: তৃণমূলের পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ রাজু দে’কে গুলিকাণ্ডে ২জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। তাদের মধ্যে একজন দীপঙ্কর রায় কোচবিহার উত্তর বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক সুকুমার রায়ের ছেলে। গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁর গাড়ির চালক উত্তম গুপ্তকেও। যে কালো গাড়ি থেকে তৃণমূলনেতাকে গুলি করা হয়েছে, সেই গাড়িটিকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য কোচবিহারে। এই ঘটনায় যুক্ত আরও ২জনের খোঁজ চলছে।
জানা গিয়েছে, তৃণমূল নেতাকে গুলি করার ঘটনায় কোচবিহারের পুণ্ডিবাড়িতে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন তৃণমূল। টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন তাঁরা। বিজেপি বিধায়কের ছেলেকে গ্রেফতারের পরেও সেই বিক্ষোভ থামেনি। এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে পার্টি অফিস থেকে বাড়ি ফেরার পথে কোচবিহার ২ নম্বর ব্লকের পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ রাজু দে গুলিবিদ্ধ। তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। গুরুতর আহত অবস্থায় কোচবিহারের বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে তাঁকে।
সূত্রের খবর, একটি কালো গাড়ি থেকে রাজু দে-কে গুলি করা হয়েছিল। স্থানীয় সিসিটিভি ফুটেজে সেই গাড়ির ছবি ধরা পড়েছে। ওই গাড়িটি বিজেপি বিধায়ক সুকুমার রায়ের। তাঁর গাড়ি নিয়েই তাঁর ছেলে এই হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিজেপি বিধায়ক।
সূত্রের খবর, রাজু দে কোচবিহার-২ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ তথা চকচকা অঞ্চলের প্রাক্তন অঞ্চল সভাপতি। ঝিনাইডাঙা থেকে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। আচমকাই একটি কালো গাড়ি এসে পথ আটকায় তাঁর। গাড়ির ভিতর থেকেই তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলিটি লাগে তাঁর ডান কাঁধে। সঙ্গে সঙ্গে লুটিয়ে পড়েন তিনি। স্থানীয়রাই দেখতে পেয়ে ছুটে আসে। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। বর্তমানে চিকিৎসা চলছে তাঁর। ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এই হামলায় গেরুয়া শিবিরের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল। তবে বিজেপি অভিযোগ অস্বীকার করে তৃণমূলের গোষ্ঠীর দিকেই অভিযোগ করেছে।