নিজস্ব প্রতিনিধি: শ্রমিকের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) হয়ে প্রচার চালাচ্ছিল। এমনকি নাশকতামূলক কাজকর্মেরও চেষ্টা চালিয়েছিল। কিন্তু তার আগেই মালয়েশিয়া পুলিশের হাতে পাকড়াও হল বাংলাদেশের কুখ্যাত জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহরীর ৩৬ সদস্যকে। ওই ৩৬ জনের মধ্যে পাঁচ জনের বিরদ্ধে সন্ত্রাসী কাজকর্মে লিপ্ত থাকার অভিযোগে বিচার শুরু হয়েছে। বাকি ৩১ জঙ্গির মধ্যে ১৬ জনকে গলাধাক্কা দিয়ে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। ১৫ জনকে জেলে রাখা হচ্ছে। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই মালয়েশিয়া সরকারের তরফে মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। জনশক্তি রফতানির নামে জঙ্গি রফতানি না করার জন্য সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।
মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসিউশন ইসমাইল জানিয়েছেন, ‘শ্রমিক হিসাবে কাজ করতে এসে ওই ৩৬ বাংলাদেশি জঙ্গি কুখ্যাত সন্ত্রাসী সংগঠন আইএসের হয়ে প্রচার চালাচ্ছিল। মালয়েশিয়ার মাটিতে আইএসের শাখা খুলে জঙ্গি কর্মকাণ্ডের প্রসার ঘটানোর পাশাপাশি মোটা অঙ্কের তহবিলও গড়েছিল। গত বছর ৫ অগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের উচ্ছেদের পিছনেও বিশেষ ভূমিকা রেখেছিল। গোয়েন্দারা দীর্ঘদিন ধরেই নজর রেখে চলেছিলেন ওই ৩৬ জঙ্গির উপরে। ২৪ এপ্রিল থেকে সেলাঙ্গর ও জোহর রাজ্যে তিন দফায় বিশেষ অভিযান চলিয়ে গ্রেফতার করা হয় তাদের। ধৃতদের মধ্যে পাঁচ জনের বিরুদ্ধে শাহ আলম ও জোহর বাহরু সেশন্স কোর্টে মামলা চলছে।
মালয়েশিয়ার মাটিকে কোনও জঙ্গি সংগঠনের ঘাঁটি হিসাবে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন। তিনি বাংলাদেশি জঙ্গিদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘মালয়েশিয়াকে জঙ্গি তৎপরতার ঘাঁটি বা ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করার যে কোনও প্রচেষ্টা শক্ত হাতে দমন করা হবে।তেমন হলে আর কোনও বাংলাদেশি শ্রমিককে মালয়েশিয়ায় ঢুকতে দেওয়া হবে না।’
’